
মাগুরায় আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার বাকি তিন আসামি- সজীব শেখ, রাতুল শেখ ও জাহেদা বেগম খালাস পেয়েছেন।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতের চারপাশে ছিল কড়া নিরাপত্তা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল জানান, মাত্র দুই মাস ১১ দিনের মাথায় মামলার রায় হলো। মামলায় মোট ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
২০২৫ সালের ৬ মার্চ মাগুরার শ্রীপুরে বড় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মৃত্যুর পর তার মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তদন্তে উঠে আসে, ধর্ষণ ও হত্যার মূল হোতা হিটু শেখ—যিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
তবে আদালতে বারবার দাবি করেন, তিনি নির্দোষ। অথচ ডিএনএ পরীক্ষায় তার সম্পৃক্ততা সাব্যস্ত হয়।
অভিযোগপত্রে হিটু শেখের বর্বর আচরণের বিবরণ উঠে আসে। তদন্তে দেখা যায়, ধর্ষণের সময় সে ধারালো ব্লেড ব্যবহার করে শিশুটির শরীরে আঘাত করে। ধর্ষণের পর সে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া ও মাঠে কাজ করে।
শিশুটির অবস্থা গুরুতর হলেও প্রথমে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে স্থানীয় হুজুরের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় 'ঝাড়ফুঁকের' জন্য। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলেও সঠিক চিকিৎসা ব্যাহত হয় তথ্য গোপনের কারণে।
হিটু শেখের স্ত্রী জাহেদা বেগমের বিরুদ্ধে ছিল প্রমাণ লোপাট ও তথ্য গোপনের অভিযোগ (দণ্ডবিধি ২০১ ধারা), দুই ছেলে সজীব শেখ ও রাতুল শেখের বিরুদ্ধে ছিল মানসিকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ (দণ্ডবিধি ৫০৪ ধারা)। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় আদালত তিনজনকেই খালাস দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ কৌসুলি হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল সমমর্যাদার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজীকে নিয়োগ দেয়।
এই ঘটনা মাগুরা জেলাসহ পুরো দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। শিশুটির মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ জনতা আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার দ্রুত শেষ করার দাবিও উঠে আসে- যা বাস্তবে দ্রুততম সময়ে বিচার ও রায় প্রমাণ করে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম