প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫, ১২:২৬ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল সীমান্তে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অন্তত ৭৫০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও স্থানীয় জনতার দৃঢ় প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সীমান্তে এই ঘটনা কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে বিএসএফ পিছু হটে যায়, ফলে বড় ধরনের কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়নি।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ত্রিপুরা ও রাজস্থান থেকে সম্প্রতি আটক হওয়া প্রায় ৭৫০ জনকে সীমান্তে নিয়ে আসে ভারতীয় বাহিনী। এর মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক, পাশাপাশি কিছু রোহিঙ্গা রয়েছেন বলেও জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তপথে বিএসএফ পুশইনের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরে সতর্ক অবস্থান নেয় বিজিবি। তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে স্থানীয় মানুষজনও প্রতিরোধে শামিল হন। মসজিদের মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে এলাকাবাসী সিঙ্গারবিল, বিষ্ণুপুর, নলঘরিয়া, মেরাসানী ও নোয়াবাদী সীমান্তে জড়ো হয় দেশীয় অস্ত্রসহ। জনতার বিপুল উপস্থিতি দেখে পিছু হটে যায় বিএসএফ।
সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সদস্য বাচ্চু মিয়া জানান, “রাত ২টার দিকে বিজিবির মাধ্যমে খবর পেয়ে স্থানীয়দের সীমান্তে যেতে বলা হয়। সবাই একসঙ্গে জড়ো হলে বিএসএফ সরে যায়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।”
ইউনিয়ন সদস্য মামুন চৌধুরী বলেন, “পুশইনের চেষ্টা টের পেয়েই এলাকায় মাইকিং শুরু হয়। বিজিবির সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমরা সবাই সীমান্তে পৌঁছে যাই। এতে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।”
বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা বলেন, “সীমান্তে এখন শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। পুশইন ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সাহসিকতা দেখিয়েছে।”
বিজিবি-২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহাম্মেদ বলেন, “পুশইনের খবর পেয়ে আমরা আগে থেকেই সতর্ক অবস্থান নিই। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষজনও পাশে দাঁড়ায়। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ