
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত সংস্কার ও হাসিনার বিচার সম্পন্ন করে জাতীয় নির্বাচন দিলে আমরা সে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। সংস্কার ও বিচারের আগে কোনো নির্বাচন নয়।’
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লার লাকসামে জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন লাকসাম পৌর জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের দলের আমির ইতিমধ্যে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। নতুন স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অহংকারী, অত্যাচারী শাসকের পরিণতি কী হতে পারে, হাসিনাকে দেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে গিয়ে জনগণ হাসিনাকেই নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। জুলাই আন্দোলনে ২ হাজার ছাত্র-জনতার জীবন, ৩০ হাজার আহতের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ হবে পূর্ণ স্বাধীন। এখানে জনগণের অধিকার থাকবে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, ইনসাফপূর্ণ অর্থনীতি হবে, সঠিক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত হবে, এ দেশ থেকে হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হবে না।’
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ১৬ বছর আমাদের ভোটাধিকার ছিল না, গণতন্ত্র ছিল না, আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকার।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে জনগণকে তাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। বিএনপি ও জামায়াত যেভাবে গত ১৬ বছর নির্যাতন সহ্য করে আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনাকে উৎখাত করেছে, সেভাবেই সামনে যেকোনো জাতীয় ইস্যুতে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোরআন ও সুন্নাহর আইন ছাড়া, মানব রচিত সংবিধান মানুষের কল্যাণ সাধিত করতে পারে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোরআন-সুন্নাহর আলোকে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। এতেই জমিনে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মু. আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর অ্যাডভোকেট মু. শাহাজাহান, সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. সৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী, সহকারী সেক্রেটারি ডা. আব্দুল মুবীন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মু. ইয়াছিন আরাফাত, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মহিউদ্দিন রনিসহ স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতৃবৃন্দ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম