বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
পা হারালেও আক্ষেপ নেই রায়হানের, বৈষম্যমুক্ত হলেই আমরা স্বার্থক
আ. আজিজ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ: শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৪:৩৪ পিএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ও  শেখ হাসিনার পলায়নের খবরে সারাদেশে তখন আনন্দ মিছিলে উত্তাল ছিল। এর ঢেউ ছড়িয়ে পরে গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা ময়মসিংহ মহাসড়কের মাওনা এলাকায়ও। সে মিছিলের মধ্যে একদল বিজিবি সদস্য আটকা পরে মাওনার পল্লী বিদুৎ মোড়ে। সেখানে কিছু উশৃঙ্খল জনতা বিজিবিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে এলোপাথারী গুলি ছুড়ে বিজিবি। গুলি আঘাত হানে আনন্দ মিছিলে। একটি গুলি রায়হানের পা ভেদ করে চলে যায়, কিছু বুঝে উঠার আগেই আনন্দ মিছিল বিষাদে পরিণত হয়। 
                                                                                                   
রফিকুল ইসলাম রায়হান (৩০) পিরোজপুর জেলার কাউখালি উপজেলার জোলারগাতি গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। সে শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তার কলাবাগান এলাকার ফজলুল হকের ভাড়াটিয়া 

দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় রায়হান। সংসারে সচ্ছলতা না থাকায় এসএসসির পর আর লেখাপড়া হয়নি। জীবিকার সন্ধানে মা বাবাকে নিয়ে ২০১৭সালে গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা এসে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি কারখানায় কাজ করতেন।

গুলিতে এক পা ঝাঝরা হয়ে যাওয়ায় এখন ঘরবন্দি। মা বাবা স্ত্রী ও সন্তান সহ পুরো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল এই রায়হান এখন কাজ না করতে পেরে অনেকটা অসহায় জীবন যাপন করছেন। 

আহত রায়হান বলেন, বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে আমরা আন্দোলন করেছি, যখন দেখেছি ঢাকায় আমাদের ভাইয়েরা মারা যাচ্ছে তখন আমরা গ্রাম এলাকায় গাজীপুরের শ্রীপুরের  মাওনায় অনলাইন ও অফলাইনে সাধারন জনগনকে এক করে আন্দোলন করেছি।

শিল্পকারখানা বন্ধ করে রাস্তাঘাটে অবরোধ পালন করেছি। শেখ হাসিনার পলায়নের খবরে হাজারো লোক নিয়ে বিশাল মিছিল বের করি আমরা। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হয়ে অচেতন হয়ে যাই। 

আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানে চিকিৎসা পাইনি, পরের দিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি হই। দুই দিন পর থেকে সরকার আমাদের খবর নেয়, এর আগে ধারদেনা করে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। 

তিনি আরও বলেন, শুধু পা নয় জীবন গেলেও কোন কষ্ট বা আক্ষেপ থাকতো না, কেননা নতুন প্রজন্মের কাছে নতুন বাংলাদেশের পরিচয় করাতে পেরেছি। এখন সব ক্ষেত্রে বৈষম্যমুক্ত হলেই আমরা স্বার্থক। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ ঠিক পথেই হাটবে। তবে ব্যক্তি স্বার্থ নয় দেশের প্রয়োজনে এপা নিয়েও ভবিষ্যতের যে কোন আন্দোলনের সামনের সারিতেই থাকবেন বলেও নিশ্চয়তা দেন তিনি।

রায়হানের বাবা ফজলুল হকের বলেন, সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলো রায়হান, এখন সে কাজ করতে পারে না। বাধ্য হয়ে আমি বৃদ্ধ বয়সে ফুটপাতে কলা বিক্রি করে কোন মতে খেয়ে পড়ে আছি। তবে বাসা ভাড়া বাকী পড়েছে কয়েক মাসেন, ধার দেনা হয়ে গেছে অনেক। এর পরও আমাদের কষ্ট নেই। সবাই সহযোগিতা করে যাচ্ছে। জুলাই ফাউন্ডেশন থেকেও কিছু সহযোগিতা করেছে। তবে স্থায়ী একটি ব্যবস্থা হলে নিশ্চয়তা পেতাম।

স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close