প্রকাশ: বুধবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৪:৪১ পিএম

রিকতা আখতার বানু পেশায় একজন সেবিকা, তিনি চিলমারী হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসাবে কর্মরত আছেন। নিজেকে রেখেছেন মানুষের সেবায় নিয়োজিত। প্রতিবন্ধীরা যেন বোঝা না হয়, কেউ যেন তাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য না করেন তাই কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনায় গড়ে তোলেন প্রতিবন্ধী স্কুল। যেটির নাম করন করেন রিকতা আখরাত বানু (লুৎফা) বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। চিকিৎসা সেবার সাথে প্রতিবন্ধীদের আলাদা সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখায় আজ তিনি চিলমারীকেসহ বাংলাদেশকে বিশ্বে আবারো পরিচয় করে দিলেন। তিনি বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি বিভাগে বিবিসির ২০২৪ সালের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের একমাত্র নারী হিসাবে।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা সরকারী বাড়ী এলাকার আবু তারিক আলমের স্ত্রী রিকতা আখতার বানু। তিনি পেশায় একজন নার্স। বৈবাহিত জীবনে তাদের দুটি সন্তান ১টি ছেলে ও ১টি মেয়ে। ২য় সন্তান মেয়ে তানভীর দৃষ্টিমনি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিপাকে পড়েন বাবা, মা দুজনেই। তবুও হাল ছাড়েননি তারা। রিকতা আখতার বানুর স্বামী চিলমারী গোলাম হাবিব মহিলা কলেজে কর্মরত। মেয়ে প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিভিন্ন স্কুলের ভর্তি করতে গেলে নানান প্রশ্নের সাথে হয়রানীর শিকার হন। সেই কষ্ট আর সকল প্রতিবন্ধীদের কথা চিন্তা করেই উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের ব্যাংকমারা এলাকায় গড়ে তোলেন রিকতা আখতার বানু (লুৎফা) বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়।
২০০৯ সালে ২৬ শতক জমিতে নিজের অর্থায়নে দোচালা একটি টিনের ঘর তুলে ৪ জন শিক্ষক এবং ৬২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা হলেও বর্তমানে ২১ জন শিক্ষক প্রায় ৩শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়ে এগিয়ে চলছে রিকতা অখতার বানুর আশার আলোর স্বপ্নের স্কুলটি।
স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করতে অনেক কষ্ট করেছেন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক শাহিন শাহ বলেন, বিবিসি গনমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের মধ্যে আমাদের চিলমারী উপজেলার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রিক্তা আখতাার বানু একজন। এজন্য তার এই আনন্দে আমরা আনন্দিত, আমরা তার সাফল্য ও উন্নতি কামনা করছি।
প্রতিবন্ধীদের দেশের সম্পদ হিসাবে গড়ে তোলা যায় একটি প্রমান করছেন রিকতা আখতার বানু জানিয়ে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু তারিক আলম বলেন, বিবিসির তালিকায় রিক্তা আখতার বানুর নাম এসেছে এজন্য সভাপতি হিসেবে আনন্দিত। তিনি প্রতিবন্ধীদের সাথে নিয়ে দু:খ কষ্ট বুকে ধরে এগিয়ে নিচ্ছেন, আমরা গর্বিত।
সকল প্রতিবন্ধী আমার সন্তান প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে পেরে আমি গর্বিত জানিয়ে বিবিসির প্রকাশিত তালিকার থাকায় রিক্তা আখতার বানু বলেন, আমি একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে ঘুরেছি কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে তারপর সকল প্রতিবন্ধীর কথা চিন্তার সাথে আমার মেয়ে জন্য স্বামীর সাথে পরামর্শ করে একটা স্কুল করার চেষ্টা করি, আমার মেয়ে সহ কয়েকজন বাচ্চা নিয়ে স্কুল শুরু করি।
তিনি আরও জানান, আজকে সবচেয়ে এটা আনন্দের বিষয় আমি কল্পনা করতে পারি নাই বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল চিলমারী হতে এবং আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে দৃষ্টিমনিসহ এলাকার প্রতিবন্ধী শিশুদের কারণে আমি বিশ্বের ১০০ নারীর তালিকায় আমি যে সম্মানিত হয়েছি, এটি শুরু চিলমারীর নয় এটি বাংলাদেশের সম্মান বলে আমি মনে করি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর