প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ পিএম

গাইবান্ধায় বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে মারপিট ও লুটপাট, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের উত্তর গিদারী বারটিকরী মধ্যপাড়া গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে মারপিট ও লুটপাটের ঘটনায় সোমবার থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় আতোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন (৩৩/৫১৩)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের উত্তর গিদারী বারটিকরী মধ্যপাড়া গ্রামের রবিজল হকের ছেলে ফিরোজ মিয়াকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের লোকজন এলাকায় গিয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। খোঁজাখুঁজির ওই বিষয়ে ফিরোজ মিয়া একই গ্রামের কামাল হোসেনের স্ত্রী আতোয়ারা বেগম ও তাঁর পরিবারকে দোষারোপ করেন। এই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ফিরোজ মিয়া বেশ কিছু দিন যাবৎ আতোয়ারা বেগম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে শত্রুতার মনোভাব পোষণ করে আসছিলেন।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর ফিরোজ মিয়া ও তাঁর লোকজন ধারালো ছোরাসহ মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আতোয়ারা বেগমের জ্যাঠাশ্বশুর আবুল কাশেম সরকারের বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় আতোয়ারা বেগম ও তাঁর ছেলে আরিফ মিয়াসহ অন্যরা গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে আসামি মধু মিয়ার হুকুমে আসামি ফিরোজ, আরিফ মিয়া, নাজিম, শাহ কামাল, আয়না বেগম ও মমতা বেগম তাঁদের হাতে থাকা মারাত্মক ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন।
এতে আরিফ, মৌসুমী বেগম, খাজা মিয়া ও জয়নালকে রক্তাক্ত হাড়কাটা জখম এবং আঙ্গুরী বেগমকে হাড়ভাঙা জখম করা হয়। এ সময় আসামি নাসরিন আহত মৌসুমী বেগমের গলায় থাকা ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ৬ আনা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যান। রেজু মিয়া আহত আঙ্গুরী বেগমের পরনের কাপড় টেনে খুলে ফেলে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ঘটান।
এদিকে, আহতদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা খুন-জখমসহ নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে আতোয়ারা বেগম ও ঘটনার সাক্ষীরা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম নাজমুল হুদা জানান, উত্তর গিদারী বারটিকরী মধ্যপাড়া গ্রামে মারপিটের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ