প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৪ পিএম

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা পৃথক দুটি রিট পিটিশন খারিজ করে দেওয়া হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে আদালত বলেছেন, গ্রামীণফোনের শেয়ারের প্রকৃত মালিক গ্রামীণ টেলিকম। গ্রামীণ কল্যাণ একটি চুক্তির অধীনে অর্জিত আয়ের অংশীদার হলেও সরাসরি শেয়ারহোল্ডার নয়। তাই ওই আয়কে লভ্যাংশ হিসেবে দেখিয়ে কম হারে কর দেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে অনাদায়ী কর আদায়ে গ্রামীণ কল্যাণকে অবিলম্বে চাহিদাপত্র জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের একটির দৈর্ঘ্য ৩২ পৃষ্ঠা (রিট পিটিশন নং ১৪৩৬৪/২০১৭) এবং অন্যটির ১৫ পৃষ্ঠা (রিট পিটিশন নং ১৭৭২৭/২০১৭)।
মামলার নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন দাতা সংস্থার অনুদান ও ঋণের সমন্বয়ে গঠিত ৩২০ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৪ টাকার একটি এন্ডাওমেন্ট ফান্ডের অর্থ নিয়ে ২০১১ সালের ১৩ এপ্রিল গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে নিবন্ধিত ইকুইটি পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে গ্রামীণ টেলিকমকে ৫৩ কোটি ২৫ লাখ ৬২ হাজার ৯৪১ টাকা দেয় গ্রামীণ কল্যাণ। বিনিময়ে অর্জিত আয়ের ৪২ দশমিক ৬৫ শতাংশ পাওয়ার সুযোগ পায় প্রতিষ্ঠানটি।
পরবর্তী সময়ে ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে ওই আয়কে ডিভিডেন্ড ইনকাম বা লভ্যাংশ আয় হিসেবে দেখায় গ্রামীণ কল্যাণ। এ আয়ের ওপর লভ্যাংশের জন্য নির্ধারিত ২০ শতাংশ হারে কর হিসাব করে জমা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার চুক্তির দ্বিতীয় শর্ত উল্লেখ করে বলেন, অর্থসহায়তার বিনিময়ে গ্রামীণ কল্যাণ কখনোই গ্রামীণ টেলিকমের কাছে গ্রামীণফোনের শেয়ারের মালিকানা দাবি করতে পারবে না বলে চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।
আদালত আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ২(২৬) ধারা বিশ্লেষণ করে বলেন, আইন অনুযায়ী লভ্যাংশের সুবিধা পেতে হলে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি শেয়ারহোল্ডার হতে হবে। গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণফোনের সরাসরি শেয়ারহোল্ডার না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির অর্জিত আয়কে লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। বরং আয়কর অধ্যাদেশের ৩৩ ধারা অনুযায়ী, এ আয়কে অন্যান্য উৎস থেকে আয় হিসেবে গণ্য করে কর দিতে হবে।
চূড়ান্ত আদেশে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা দুটি রিটের রুল খারিজ করে আগের স্থগিতাদেশও বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি অনাদায়ী কর আদায়ের লক্ষ্যে গ্রামীণ কল্যাণের বিরুদ্ধে অবিলম্বে চাহিদাপত্র জারি করতে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ