
ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে প্রাণপণ লড়াই করছে ১৩ বছরের কিশোর মোঃ আবদুর রহমান শেখ। সে মোংলার আলহাজ্ব কোরবান আলী আলিম মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র। ইতোমধ্যে সে ২২ পারা কোরআন হিফজ শেষ করেছে।
তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মালগাজী গ্রামে। অবুঝ বয়সে মারাত্মক এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে এখন মৃত্যুর মুখোমুখি সে। আর তার চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খেয়ে দিশেহারা দিনমজুর বাবা মোঃ মজনুয়ার শেখ।
মেধাবী এই কিশোর কোরআন প্রতিযোগিতায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নসহ বেশ কয়েকটি ইসলামিক অনুষ্ঠানে প্রথম সারির পুরস্কার অর্জন করেছে।
বড় হয়ে একজন বিশিষ্ট আলেম ও পূর্ণাঙ্গ হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার, কিন্তু হঠাৎ নেমে আসা অর্থসংকট আর অমানিশার অন্ধকারে থমকে গেছে তার সেই স্বপ্ন। সামান্য পায়ে আঘাত থেকে ভুল চিকিৎসার দরুন ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি কেমোথেরাপি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, আবদুর রহমানকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে আরও প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু দিন এনে দিন খাওয়া দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
মাদ্রাসাশিক্ষক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে সাইকেল চালাতে গিয়ে পায়ে সামান্য আঘাত পায় আবদুর রহমান। পরিবারের লোকজন তাকে স্থানীয় মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করার পর জানানো হয়, হাড় সামান্য ফেটে গেছে এবং ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়।
তবে আবদুর রহমানের পায়ে আগে থেকেই একটি ছোট টিউমার ছিল, যার চিকিৎসাও চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, ভুল ব্যান্ডেজ ও অসাবধানতামূলক চিকিৎসার কারণে টিউমারটি ফেটে গিয়ে ইনফেকশন তৈরি হয়। পরবর্তীতে তাকে খুলনা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেখানকার চিকিৎসক নিশ্চিত করেন যে, জটিল ইনফেকশনের কারণে ১৩ বছর বয়সী এই হাফেজ কিশোরের পায়ে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে দ্রুত সুচিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু একজন দিনমজুর বাবার পক্ষে ক্যানসারের মতো ব্যয়বহুল রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রিয় সন্তানের জীবন বাঁচাতে ইতিমধ্যে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন অসহায় পিতা।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে পিতা মোঃ মজনুয়ার শেখ বলেন, “আমি অত্যন্ত দরিদ্র ও অশিক্ষিত দিনমজুর মানুষ। দিন এনে দিন খাই, সংসার চালানোই যেখানে কষ্টকর, সেখানে ছেলের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা টানা আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। আমি দেশ ও সমাজের বিত্তবান এবং মানবিক মানুষদের কাছে বিনীত আকুতি জানাচ্ছি, আপনারা যার যার সাধ্যমতো একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন, যাতে আমার ২২ পারার হাফেজ ছেলেটা সুস্থ হয়ে আবার কোরআনের আলো ছড়াতে পারে।”
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা ও মাধ্যম:
মোঃ মজনুয়ার শেখ (হাফেজ আবদুর রহমানের বাবা)
ঠিকানা: গ্রাম: মালগাজী, ওয়ার্ড নং-০৪, উপজেলা: মোংলা, জেলা: বাগেরহাট।
যোগাযোগ: ০১৯২৫-৪৩৪৯০৫
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ