প্রকাশ: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৩ পিএম

নতুন পে-স্কেলে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পাশাপাশি অবসরভোগীদের পেনশন ও অবসরকালীন বিভিন্ন সুবিধাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের জন্য বেশি হারে পেনশন বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নিট পেনশনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ২০০ টাকা।
এ বিষয়ে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। এতে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, নিট পেনশন, আনুতোষিক, পারিবারিক পেনশন এবং ছুটি নগদায়নের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বিধান ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে অবসরভোগী যে নিট পেনশন পেতেন, সেটিকে ভিত্তি ধরে নতুন কাঠামোয় পেনশন বৃদ্ধির হিসাব করা হবে। ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ এবং ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশনে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের জন্য বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ শতাংশ। তবে নতুন হিসাব অনুযায়ী নিট পেনশনের সর্বোচ্চ সীমা ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ৯ হাজার টাকা নিট পেনশন পাওয়া কোনো অবসরভোগী সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পেতে পারেন। অন্যদিকে ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া অবসরভোগীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বৃদ্ধির পরও সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
তবে কোনো অবসরভোগী বর্তমানে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার চেয়ে বেশি নিট পেনশন পেয়ে থাকলে ১ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত তার বিদ্যমান নিট পেনশন বহাল থাকবে।
নতুন বিধানে পারিবারিক পেনশনের বিষয়েও নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। মৃত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী পুনর্বিবাহ না করার শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাবেন। এ জন্য বছরে একবার পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। তবে ৫০ বছরের বেশি বয়সী বিধবার ক্ষেত্রে এই অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার শর্ত প্রযোজ্য হবে না।
নতুন কাঠামোয় পেনশনযোগ্য চাকরিকালও নির্ধারণ করা হয়েছে। পাঁচ বছর চাকরিকাল থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত চাকরিকালকে পেনশন হিসাবের আওতায় রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এ সরকারি কর্মচারীদের পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার এসব বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি