শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
বেসরকারি উদ্যোগে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ      জিন্নাহর সঙ্গে দেখা করতে লাইনে দাঁড়ানো ব্যক্তিটি জিয়াউর রহমান নন      শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস      অ্যাটর্নি জেনারেল: সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বজায় থাকবে      ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা      আগস্টে মূল্যস্ফীতি ৮.২৬ শতাংশ, ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন      ১৮ সেপ্টেম্বরের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ      সৌদির হাতে F-35: কেন যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক?      টানা তৃতীয় দিনের মতো কমল জ্বালানি তেলের মূল্য      সেনাবাহিনী, হুথি ও সৌদি জোটের সংঘাতে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি      রাজধানীতে ডিএমপির বিশেষ অভিযান: গ্রেপ্তার ৫৬৪      নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন তারেক রহমান      
বেসরকারি উদ্যোগে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ
স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০১ পিএম

নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতোমধ্যে ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে মোট ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছে। এসব প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টায় ৯ টাকা ১২ পয়সা।

বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্ধারিত এই দাম আগে চুক্তি করা একই ধরনের প্রকল্পগুলোর তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম। ফলে তুলনামূলক কম দামে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থাপন করা হবে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র। কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি এবং বাগেরহাটের মোংলায় আরও একটি ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ঈশ্বরদীতে আরও ৭০ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্প স্থাপন করা হবে। অবশিষ্ট প্রকল্পগুলো মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, মৌলভীবাজার সদর, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং নোয়াখালীর সুধারামে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পের সক্ষমতা ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াটের মধ্যে।

বর্তমানে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত এবং ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড ব্যবস্থায় রয়েছে।

বেসরকারি খাতের পাশাপাশি বিপিডিবিও নিজস্ব অর্থায়নে বড় আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মোট ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে। এসব প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে করা চুক্তিগুলো সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

এর পাশাপাশি রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ডিপিপি প্রস্তুত করেছে বিপিডিবি। ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও পরিচালিত হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকেও উৎসাহিত করছে সরকার। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিপিডিবি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহ দিতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে উৎপাদন ব্যয়, মুনাফা ও প্রিমিয়াম বিবেচনায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকার দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া গেলে এই খাতে সরকারি বিনিয়োগের চাপও কমানো সম্ভব হতে পারে।




স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি



আরও সংবাদ   বিষয়:  #সৌরবিদ্যুৎ #নবায়নযোগ্য_জ্বালানি #জাতীয়_গ্রিড #বিদ্যুৎ #বাংলাদেশ #বিপিডিবি  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close