
২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জ্বালানি কাঠামো নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার রাতে রাজবাড়ীর কলিমহড় গ্রামে নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উৎপাদনকারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বর্তমানের মতো সংকট তৈরি হতো না। সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারতেন। কিন্তু সেই ব্যবস্থা কার্যকরভাবে গড়ে তুলতে না পারায় বিদ্যুৎ খাতে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ও শিল্প-কারখানাগুলো দুর্ভোগে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের সরকারের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কারণে জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
সরকার ইতোমধ্যে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে বলেও জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিতুমীর বলেন, গ্যাসের মাধ্যমে তুলনামূলক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে প্রায় ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ কাজে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কাজে লাগানো হবে বলেও জানান তিনি।
পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিতুমীর। তিনি বলেন, নদীতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি থাকলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। এ কারণে পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পেয়েছে।
এরই অংশ হিসেবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু পানির রিজার্ভার তৈরি নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও করা হবে।
উজান থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব পানি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিতুমীর।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পানি প্রবাহের সঙ্গে ৫৪টি নদীর সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের মূলনীতি হচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ন্যায় ও আন্তর্জাতিক আইনের স্বীকৃত ভিত্তিতে ভাটি অঞ্চলের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
পানি বণ্টনসংক্রান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য ইতোমধ্যে একটি কারিগরি দল গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দলটি শিগগিরই ভারতকে এ বিষয়ে অবহিত করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ