| শিরোনাম: |

রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোক্তার হোসেনকে আটক করে। তবে শুক্রবার সকালে ডিবি হেফাজতেই তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ—নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এতে সই করতে অস্বীকৃতি জানান।
নিহতের ছেলে মৃদুল অভিযোগ করেন, পল্লবী থানার কনফারেন্স রুমে বাবা-ছেলেকে একই সঙ্গে মারধর করা হয়। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়েও নানা ধরনের নির্যাতন চালানো হয়। তার দাবি—বাবাকে হাত-পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল এবং গোপনাঙ্গে ইট ঝুলিয়ে অত্যাচার চালানো হয়।
মৃদুল আরও জানান, চায়ের দোকান থেকে কয়েকজন লোক তার বাবাকে গাড়িতে তুলে নেয় এবং গাড়ির ভেতরেও তাকে মারধর করা হয়। কিছুক্ষণ পর মৃদুলকেও আরেক গাড়িতে তোলা হয়। তার কথায়—ডিবি অফিসে ভোররাতে বাবার চিৎকার স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল।
মোক্তারের স্ত্রী মুক্তা শিকদারের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণে তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, ডিবি তাদের জানিয়েছিল ছেলেকে দেখতে অফিসে নিয়ে যাবে; কিন্তু সেখানে না নিয়ে হাসপাতালে মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আটক অভিযানের সময় মোক্তার পালানোর চেষ্টা করেছিল এবং স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করেছিল। রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সকালে তাকে ডাকার পর সাড়া না পেলে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পল্লবী থানার ওসি, ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার ও যুগ্ম কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ডিএমপির ডিসি-মিডিয়া শুধু জানিয়েছেন—ডিবি তাদের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দিয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্ত চলছে। পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বিবৃতির মধ্যে বড় ধরনের অমিল থাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ