প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫, ১:৪৩ পিএম

স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। ২০০৪ সালের এই দিনে দুর্নীতি দমন ব্যুরোর জায়গায় নতুন করে স্বাধীন কমিশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের পাশাপাশি উত্তম চর্চার বিকাশই ছিল প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য। দুই দশক পেরিয়ে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধের একমাত্র প্রতিষ্ঠানটি এখন ২২তম বছরে পদার্পণ করেছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যের একতাই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ’।
২০০৪ সালে বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের নেতৃত্বে প্রথম কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। পরে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক সেনাপ্রধান হাসান মশহুদ চৌধুরী, গোলাম রহমান, মো. বদিউজ্জামান, ইকবাল মাহমুদ এবং মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বর্তমানে কমিশন পরিচালনা করছেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটিতে দুদকের কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন নেই। যদিও দিনটি সামনে রেখে প্রস্তুতিসভার কথা জানা গেছে, তবে মূল কর্মসূচি হিসেবে আগামী সপ্তাহে একটি মতবিনিময় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, “দুদকের পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান থাকবে। বর্তমানের দুদক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সক্রিয় ও শক্তিশালী। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা পালন করছে।”
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর দুদকের কার্যক্রম বিশেষভাবে ত্বরান্বিত হয়। সাবেক সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চপদস্থ আমলা ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১,৩০০ মামলা দায়ের হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে বিভিন্ন অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর ৫৩০টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয়। একই সময়ে ১,২৯৪টি মামলা দায়ের এবং ৬২৫টি মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে সর্বাধিক ১১২ ও ১২৭টি অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আর সবচেয়ে বেশি ৩১২টি মামলা দায়ের হয়েছে আগস্টে।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে