প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১২ পিএম

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ফাঁসির আদেশ দেওয়ায় বিশ্বে নজির তৈরি হবে।
তিনি বলেন, “শুধু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মাধ্যমে শেখ হাসিনার গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার সম্ভব। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।”
আখতার হোসেন আরও বলেন, “ভারত সরকার যেন খুনি শেখ হাসিনাকে আশ্রয় না দিয়ে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার হাতে সোপর্দ করে। এই রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে এটি বিশ্বের জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
প্রসঙ্গত, মামলার শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জানিয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী সব ধরনের অপরাধের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন পরিকল্পনাকারী, হুকুমদাতা ও সর্বোচ্চ নির্দেশদাতা।
মামলার অন্য দুই আসামি ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। সাবেক আইজিপি মামুন এই মামলার একমাত্র গ্রেপ্তারকৃত আসামি ছিলেন এবং তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা হয়।
মামলার অভিযোগগুলো ছিল উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে হত্যার নির্দেশ দেওয়া, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যার সঙ্গে প্ররোচনা ও সহায়তা, চানখারপুলে ছয়জনকে গুলি করে হত্যা, আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।
মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী ছিলেন। শেখ হাসিনার কথোপকথনের অডিও-ভিডিও, গণমাধ্যম প্রতিবেদন ও জব্দকৃত প্রমাণও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়। যুক্তি-তর্ক ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে ২৩ অক্টোবর শেষ হয়। চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেন।