প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:০২ পিএম

প্রতীকী ছবি
সরকার বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে একতরফা ও জালিয়াতিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করে ওই নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কমিশন ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃস্থাপনের অংশ হিসেবে সরকার নির্দেশ দিয়েছে, ওই নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী প্রায় ১৩ লাখ কর্মকর্তাকে ভবিষ্যতের নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া যায় কি না, তা পর্যালোচনা করার।
নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৯ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়ে রদবদল শুরু করেছে সরকার। ডিসিরাই পরবর্তী নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, বিগত তিন নির্বাচনে যারা ন্যূনতমভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের এবার দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। তবে তা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, সতর্কভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে তাদের পরিবেশ-পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও আচরণ বিবেচনায় নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন নিয়োগ ও বদলির মাধ্যমেও কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হবে।
সাধারণত স্কুলশিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই ‘সবাইকে একসাথে অযোগ্য ঘোষণা করা হলে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব কাঁধে নেবে কে?’-এ প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি মন্তব্য করেছেন, রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে সরানো প্রয়োজন। তবে অনেক কর্মকর্তা চাকরির বাধ্যবাধকতার কারণে আগের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাংবিধানিক দায়িত্বের কারণে তা প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ তাদের ছিল না। তাই সৎ, দক্ষ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়াই উত্তম, এমনকি তারা পূর্বের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করলেও কোনো সমস্যা নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে ইসিকে কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কঠোর ও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ নিয়াজ