| শিরোনাম: |

বাংলা একাডেমির সংগ্রহশালার জন্য জাহানারা ইমামের দান করা কিছু বই বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৯ নভেম্বর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম ফেসবুক পোস্টে লিখিত ব্যাখ্যায় বলেন, “প্রথম আলোর প্রতিবেদনে কিছু আংশিক সত্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং কিছু অংশ এমনভাবে হাইলাইট করা হয়েছে, যাতে পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারেন।”
তিনি জানান, বই বিক্রির সিদ্ধান্তটি বর্তমান প্রশাসনের নয়—বরং ২০২৪ সালের শুরুতে আগের প্রশাসন এটি নেয়। হাজার হাজার “মানহীন ও পরিত্যক্ত” বইয়ের মধ্যে জাহানারা ইমামের ব্যক্তিগত সংগ্রহের কিছু বই অনিচ্ছাকৃতভাবে যুক্ত হয়েছিল বলে ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়।
বাংলা একাডেমি জানায়, গত ২৫ জুন থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বিধি মেনে বহু বছর ধরে মজুদ থাকা পরিত্যক্ত বই ও কাগজপত্র নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল বইমেলায় ফেরত আসা অযোগ্য বই, ব্যবহারের অনুপযোগী গ্রন্থাগার বই এবং বিক্রয়-অযোগ্য প্রকাশনা। ঘর খালি করার প্রয়োজনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তবে একাডেমির দাবি, জাহানারা ইমাম বা অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সংগ্রহশালার বই বিক্রির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাদের রেকর্ড অনুযায়ী, জাহানারা ইমামের দান করা ৩৫৯টি বইয়ের মধ্যে ৩০৮টি বর্তমানে তিনতলার নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষিত আছে, যা যে কেউ দেখতে পারবেন।
২০১৪ সালে গঠিত গ্রন্থাগার পুনর্বিন্যাস কমিটি কিছু বই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। বাংলা একাডেমি বলছে, এসব বই অনেক আগেই পরিত্যক্ত তালিকায় যুক্ত হয়েছিল, যা বর্তমান কর্তৃপক্ষের অজানাই ছিল।
মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম অভিযোগ করেন, প্রথম আলোর প্রতিবেদক তথ্য যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকর শিরোনাম ব্যবহার করেছেন এবং ঘটনাটিকে বর্তমান প্রশাসনের দায় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা সংবাদমাধ্যম ও আগ্রহী ব্যক্তিদের অনুরোধ করব, তারা যেন একাডেমির গ্রন্থাগারে এসে নিজে দেখে নেন—সংগ্রহগুলো অক্ষত আছে।”
শেষে তিনি স্বীকার করেন, বহু বছর আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার দায় পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না, তবে “এটিকে বর্তমান প্রশাসনের ওপর চাপানো অন্যায্য এবং সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ