
ফাইল ছবি
সরকার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। এতে ফেরারি আসামিদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা, মিথ্যা তথ্য দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল, জোট করলেও নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন, ‘না’ ভোটের বিধানসহ একগুচ্ছ নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, অনুচ্ছেদ-১২ তে বলা হয়েছে— কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারি বা পলাতক ঘোষিত ব্যক্তি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন এবং প্রার্থীও হতে পারবেন না। এছাড়া কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বা লাভজনক কোনো প্রতিষ্ঠানের পদে থাকলে প্রার্থী হওয়া যাবে না।
হলফনামায় দেশে-বিদেশে আয়ের উৎস ও সর্বশেষ বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। কেউ মিথ্যা তথ্য দিয়ে নির্বাচিত হলে এবং তা প্রমাণিত হলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার ক্ষমতা থাকবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হাতে।
অনুচ্ছেদ-২ সংশোধনের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে কমিশনকে আর আগের মতো বেগ পেতে হবে না।
অনুচ্ছেদ-৮ অনুযায়ী ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতের দায়িত্ব এখন থেকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হাতে থাকবে, যা আগে ডিসির হাতে ছিল।
অনুচ্ছেদ-৯ এ বলা হয়েছে, রিটার্নিং অফিসার কোনো ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বরখাস্ত করতে পারবেন, তবে ইসিকে অবহিত করতে হবে।
অনুচ্ছেদ-১৩ তে মনোনয়ন ফরমের জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ-১৯ এ যুক্ত হয়েছে ‘না’ ভোটের বিধান। কোনো আসনে একজন প্রার্থী থাকলে ব্যালট পেপারে ‘না’ ভোটের বিকল্প থাকবে। না ভোট বেশি হলে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অনুচ্ছেদ-২০ অনুসারে, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রার্থীকে নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
অনুচ্ছেদ-২৬ থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের বিধান বাতিল করা হয়েছে।
অনুচ্ছেদ-২৭ এ আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা যোগ করা হয়েছে। এতে প্রবাসী, সরকারি চাকরিজীবী ও দেশের ভেতরের কয়েদিরাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুচ্ছেদ-৩৬ অনুযায়ী, ভোট গণনার সময় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।
এ ছাড়া সমান ভোট পড়লে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট নেওয়া হবে। প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা। দলের প্রাপ্ত অনুদানের হিসাব ওয়েবসাইটে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আনা হয়েছে।
একই সঙ্গে, মিথ্যা তথ্য, গুজব, অপতথ্য বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে প্রার্থী ও দল উভয়ের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান যোগ করা হয়েছে।
নিবন্ধন স্থগিত হলে দলের প্রতীকও স্থগিত থাকবে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসির হাতে থাকবে। আচরণবিধি প্রতিপালনে ইসি কর্মকর্তাদেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। দলের ক্ষেত্রেও জরিমানার বিধান প্রযোজ্য হবে।