প্রকাশ: শনিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৪১ AM

সংগৃহীত ছবি
দেশে ফিরেছেন ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম।
আজ শনিবার (১১ অক্টোবর) ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে তিনি রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
দেশে ফেরার পর শহিদুল আলম বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আমাকে ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, গাজার মানুষ এখনো মুক্ত নয়। তারা এখনও আক্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের ওপর নির্যাতন চলছেই। আমাদের কাজ শেষ হয়নি।”
শহিদুল আলম মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে আসার জন্য বাংলাদেশ ও তুরস্কের সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “আমাদের মতো আরও হাজার ফ্লোটিলা যাওয়া দরকার, যতদিন না ফিলিস্তিন স্বাধীন হয়। ফিলিস্তিন মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলতেই থাকবে।”
বিমানবন্দরে শহিদুল আলমকে স্বাগত জানান তার স্ত্রী ও মানবাধিকারকর্মী রেহনুমা আহমেদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব, আলোকচিত্রী ও গবেষক মুনেম ওয়াসিফসহ অন্যান্যরা।
শহিদুল আলম স্বাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠান দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। নাগরিক অধিকার ও মানবিক বিষয়েও তিনি সক্রিয়। গাজা অভিমুখী একটি নৌবহরে অংশ নিয়ে গত বুধবার তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হন।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) ইসরায়েল থেকে মুক্তির পর শহিদুল আলম টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।
শহিদুল আলমের মুক্তি ও দেশে প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নৃশংসতা বন্ধ ও গাজায় নৌ অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ নামের একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম এই নৌযাত্রা শুরু করেছিল। এছাড়া ‘থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা’ উদ্যোগের আটটি নৌযানও এতে অংশ নেয়। মোট ৯টি নৌযানে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীরা ছিলেন। বুধবার ইসরায়েলি বাহিনী নৌবহরে আক্রমণ চালিয়ে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে আটক করে। শহিদুল আলমসহ আটকদের পরে ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে রাখা হয়। মুক্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার জর্ডান, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসে।