প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৩০ AM

সংগৃহীত ছবি
ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকায় ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড এবং সারা দেশে মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছিল।
গতকাল সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন শেখ হাসিনা ও তার দুই শীর্ষ সহযোগীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর। তিনি মামলার ৫৪ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
তিনি জানান, পুলিশের সদর দপ্তর ঢাকা থেকে প্রাপ্ত ২১৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে আন্দোলন দমনে এলএমজি, এসএমজি, চায়নিজ রাইফেল, শটগান, রিভলভার ও পিস্তলসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করে এ গুলি চালানো হয়।
আলমগীর আরও বলেন, তদন্তে সংগৃহীত আলামত, পত্রপত্রিকা, ভিডিও ফুটেজ, অডিও ক্লিপ, বিশেষজ্ঞ মতামত, বিভিন্ন প্রতিবেদন, শহীদ পরিবার ও আহতদের জবানবন্দি এবং আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রমাণিত হয়েছে যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন পরিকল্পিতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেন।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, হাজারো মানুষকে আহত করা, নির্বিচারে আটক-নির্যাতন, অপহরণ, মিথ্যা মামলা, মরদেহ লুকানো ও জোরপূর্বক দাফন, চিকিৎসা ও জানাজায় বাধা, স্বীকারোক্তি আদায়, হাসপাতালে হামলা এবং আন্দোলনরত ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের মতো ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হয়।