
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর (রোববার) ষষ্ঠীর মাধ্যমে শুরু হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেশজুড়ে চলছে প্রস্তুতির শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। মণ্ডপ সাজানো, প্রতিমা তৈরি ও নানা আয়োজনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ। এ উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলো নিয়েছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারাদেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব, আনসার, বিজিবি এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা, সার্বক্ষণিক পুলিশ টহল, গোপন পোশাকের আইনশৃঙ্খলা সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ইতোমধ্যে প্রতিটি থানা থেকে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
র্যাব জানিয়েছে, তারা ৯ হাজার সদস্য মোতায়েন করবে। থাকবে ডগ স্কোয়াড, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও সাইবার মনিটরিং সেল। আনসার ও ভিডিপি বাহিনী থেকেও প্রায় ২ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় মণ্ডপগুলোকে ‘অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ’, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’ -এই তিন ভাগে ভাগ করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পূজাকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি নিরাপত্তা হুমকির তথ্য নেই। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য সাইবার মনিটরিং টিম ২৪ ঘণ্টা তৎপর থাকবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর আরও সুসংগঠিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিমা ভাঙার ঘটনা অনেক কমেছে। যেগুলো ঘটেছে, সেগুলো সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত শনাক্ত করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম