পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানির পথে এগিয়ে যেতে হবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:২৩ পিএম আপডেট: ১৯.০৯.২০২৫ ৪:৪০ PM

বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরশীল থাকতে পারে না।’
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ইউনূস বলেন, ‘এখনই বাংলাদেশের সৌরবিদ্যুৎসহ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বিকল্পগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেওয়ার সময়। অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যেই সৌরবিদ্যুতের প্রসার ত্বরান্বিত করতে নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করেছে।’
তিনি আরও জানান, পারমাণবিক জ্বালানির সম্ভাব্য ব্যবহার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথাযথ গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই জরুরি।
সভায় গুগলের সহ–প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই এবং অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ জানান, আধুনিক পারমাণবিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তি এখন অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব।
তিনি বলেন, ‘বার্জে স্থাপিত ছোট পারমাণবিক চুল্লি কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম, যা বাংলাদেশের বাড়তে থাকা শিল্পখাতের জন্য উপযোগী হতে পারে।’
কার্ল পেজ আরও বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎ এখন আর উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কাছে অগ্রহণযোগ্য নয়। ইন্দোনেশিয়া ইতোমধ্যেই এ প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশও চাইলে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক উদ্ভাবনের নেতৃত্ব দিতে পারে।’
তিনি বাংলাদেশকে উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে উল্লেখ করে বলেন, ‘এখানে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তর কর্মসংস্থান বাড়াবে, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করবে এবং শিল্পখাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম