প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৩৩ AM

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী দ্রুত পাস করে ফ্যাসিবাদের মতো তামাককেও দেশ থেকে নির্মূল করতে হবে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘নারী, শিশু ও তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার গুরুত্ব’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশোধনীগুলো ক্যাবিনেটে তুললেও তামাক কোম্পানির শক্তিশালী লবিংয়ের কারণে বিলম্ব হচ্ছে। “আমরা যখন দেশ থেকে ফ্যাসিবাদকে তাড়াতে পেরেছি, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস করে ফ্যাসিবাদের মতো তামাককেও দেশ থেকে তাড়াতে হবে।” এ সময় তিনি প্রস্তাবিত সংশোধনী পাসের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় জানানো হয়, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে নতুন প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—পাবলিক প্লেসে স্মোকিং জোন নিষিদ্ধ করা, সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের প্রদর্শন ও বিজ্ঞাপন বন্ধ করা, ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণ, খুচরা সিগারেট বিক্রি বন্ধ করা, কোম্পানির সিএসআর কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা এবং পণ্যের মোড়কে শতকরা ৯০ ভাগ জায়গায় সচিত্র সতর্কবার্তা দেওয়া।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, ২০০৪ সালে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে এফসিটিসি–তে স্বাক্ষর করে। ২০০৮ সালে ৫.৩ ধারা বাস্তবায়নের গাইডলাইনেও সম্মতি দেয়, যেখানে বলা হয়েছে তামাক কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ থেকে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তামাক কোম্পানির সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক চুক্তির লঙ্ঘন।
বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে যে আইন সংশোধন হলে রাজস্ব আয় কমবে। বাস্তবে ২০০৫ সালে আইন প্রণয়ন ও ২০১৩ সালের সংশোধনের পর সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে সাড়ে ১২ গুণ, আর তামাকের ব্যবহার কমেছে ১৮ শতাংশ। অর্থাৎ তামাক কমলেও সরকারের রাজস্বে প্রভাব পড়ে না, বরং জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা হয়।
সভায় বক্তারা আরও জানান, প্রতিদিন তামাকের কারণে দেশে ৪৪২ জন মানুষ মারা যায়। তরুণদের লক্ষ্য করে তামাক কোম্পানিগুলো নতুন কৌশল নিয়েছে। এ প্রজন্মকে আসক্তির শিকার করা হলে তারা সারাজীবন ভোক্তা হয়ে থাকবে। তাই জাতীয় স্বার্থে এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুততম সময়ে পাস করা ছাড়া বিকল্প নেই।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ