প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৪:৩০ পিএম

সংগৃহীত ছবি
দেবিদ্বার পৌর সদরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে অন্যতম দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়ক। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে ভাঙাচোরা ও গর্তে ভরা হওয়ায় চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ ২০০৪ সালে ৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়। এরপর বেশ কয়েকবার সংস্কারের নামে বরাদ্দ এলেও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের যোগসাজশে একাধিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে।
সড়কটি দিয়ে অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। এই সড়ক দিয়েই দেবিদ্বার থেকে বিকল্প পথে ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে সহজে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহন ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করেন। অথচ বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ থাকায় যানবাহন চলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের জুন মাসে সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। কিন্তু ২০২২ সালের মার্চে দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে তড়িঘড়ি করে নিউমার্কেট থেকে বারেরা বটগাছ মোড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার ভালো মানের ১৮ ফুট প্রশস্ত পিচঢালা রাস্তা কেটে ফেলা হয়। এরপর সেখানে মাত্র ১২ ফুট সড়কজুড়ে ইটের সলিং বসায় তৎকালীন কুমিল্লার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আ.ক.ম বাহারের নামসর্বস্ব একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
পরে স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও কাজ চলতে থাকে এবং ঠিকাদারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে হুমকিও দেওয়া হয়। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর তৎকালীন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হোসাইন সাকিব সরেজমিনে এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন ছয় মাসের মধ্যে নতুন বরাদ্দ দিয়ে পিচ ঢালাই হবে। কিন্তু তিন বছর পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমানে ইটের সলিং উঠে গিয়ে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হওয়ার ফলে যানবাহন উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে নিয়মিত। স্থানীয় ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, সরকারি খাদ্যগুদাম, সার-বীজের গুদাম, হাসপাতাল, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস, স্কুল-মাদরাসা ও সিএনজি স্ট্যান্ড সবকিছু এই সড়কের পাশে। অথচ ভালো রাস্তা কেটে ইটের সলিং দেওয়ায় মানুষ আজ চরম ভোগান্তিতে।
চান্দিনা রোডের সিএনজি চালক জসিম উদ্দিন ও আবু মুসা বলেন, স্ট্যান্ড থেকে সাহেববাড়ি পর্যন্ত গাড়ি চালাতে গেলে মনে হয় নদীর মধ্যে নৌকা চলছে। অসুস্থ যাত্রী নিতে ভয় পাই, কারণ তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের বর্তমান উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, সড়কটি আমি সরেজমিনে দেখেছি। অবস্থা খুবই খারাপ। ইতোমধ্যে পিচ ঢালাইয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির কাজ শুরু করা হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/শাহো