প্রকাশ: সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১:২৯ পিএম

রংপুরের তারাগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামে তুলসি রানী নামের এক মা নিজের ৫ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে গলা কেটে হত্যা করেন। নিহত শিশু বাবুলাল ও তুলসি রানী দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটি কান্নাকাটি করায় দাদি পাতানী রানী সকালে মায়ের হাতে তুলে দেন দুধ খাওয়ানোর জন্য। পরে তুলসি রানী শিশুটিকে ঘরে নিয়ে গিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন এবং রক্তাক্ত দেহ স্বামীর হাতে তুলে দেন। এ সময় দাদি চিৎকার করলে গ্রামবাসী এসে তাকে আটক করে রাখে।
শিশুটির বাবা বাবুলাল বলেন, “মাসখানেক ধরে স্ত্রী অসুস্থ থাকায় বাচ্চা মায়ের কাছেই থাকত। আজ ভোরে কান্না করায় স্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এভাবে কান্না থামবে কোনোদিন ভাবিনি।”
দাদি পাতানী রানী জানান, কয়েকদিন ধরে নাতনী তার কাছেই ছিল। সকালে মায়ের কাছে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই দেখেন ছেলে হাতে করে গলাকাটা শিশুকে নিয়ে কাঁদছে।
ঘটনার পর আটক তুলসি রানী অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার ভাই মানিক মিয়া বলেন, “আমার বোন সন্তানদের ভীষণ ভালোবাসে। কিন্তু অসুস্থ থাকলে মানুষ স্বাভাবিক থাকে না।”
কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সবিত্রী সেন জানান, নিহত শিশুর মা মানসিক রোগে ভুগছিলেন বলে শুনেছেন।
তারাগঞ্জ থানার ওসি এম এ ফারুক জানান, নারীটিকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বজনেরাও জানিয়েছেন, তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ