
র্যাব, পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চলে জলদস্যুদলের আস্তানায় র্যাব, পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত।
আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) অভিযানের বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার আলম আজাদ জানান, দুপুরে শুরু হওয়া এই অভিযান রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলিট ফোর্স র্যাব-১১ কোস্টগার্ড নৌ-পুলিশ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সমন্বয়ে জল ও স্থলে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আজকের অভিযানে থাকা র্যাব-১১ এর অপারেশন অফিসার সিনিয়র এএসপি মো. গোলাম মোর্শেদ বলেন, “আমরা আজকে মূলত অভিযানিক এলাকায় পেট্রোলিং ও রেকি পরিচালনা করলাম এমন অভিযান আরো জোরদার করা হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়ন ও আশপাশের নৌ ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কবলিত এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। এ অভিযান চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী এলাকায়ও চলবে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আটক বা কোন অস্ত্র উদ্ধারের খবর জানা যায়নি।
গতকাল সোমবার গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় নবগঠিত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প সংলগ্ন মেঘনা নদীতে গজারিয়া থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় গুয়াগাছিয়া ও চাঁদপুর মতলব উত্তরের মধ্যবর্তী ওই নদীতে পুলিশের অভিযানিক দল ও জলদস্যুদের মধ্যে গুলি বিনিময় ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় আজ মঙ্গলবার গজারিয়া থানার এস আই সৈয়দ আজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় মামলা রুজু করেছেন, মামলায় ২০ জন জলদস্যুর নাম উল্লেখ ও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এছাড়াও সূত্র জানায়, গজারিয়ার গুয়াগাছিয়া এলাকা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে পুলিশের অভিযানকালে গতকাল সোমবার জলদস্যুদের সাথে পুলিশের গুলিবিনিময়ের ঘটনায় আজ মঙ্গলবার জলদস্যুদের গ্রেপ্তারের জন্য যৌথবাহিনী অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে শতাধিক র্যাব সদস্যসহ নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও থানা পুলিশের সদস্যরা রয়েছেন।
গজারিয়া থানার ওসি মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ৫/৬ টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা (ট্রলার) নিয়ে দস্যুদলের নয়ন-পিয়াস গ্রুপের সদস্যরা নদীতে মহড়া দেওয়াসহ নৌযানে চাঁদাবাজি করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ নদীতে অভিযানে নামে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি হয়। এরপর এক পর্যায়ে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে বিকাল ছয়টার দিকে ট্রলারযোগে পালিয়ে যায় দস্যুদল।
ওসি আরো জানান, পুলিশের অভিযানিক দলের সদস্যদের লক্ষ্য করে জলদস্যু দল প্রথমে ৪/৫ ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়, পুলিশ গুলিবর্ষণ করে দস্যুদলকে প্রতিরোধ করার সময়ে তারাও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এ সময়ে পুলিশ চায়না রাইফেলের ১৩ রাউন্ড, শর্টগানের ৬ রাউন্ড ও পিস্তলের ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এবং জলদস্যু দল বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের শতাধিক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে।
উল্লেখ্য, গজারিয়া উপজেলার নদী বিচ্ছিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল গুয়াগাছিয়ায় সক্রিয় কয়েকটি নৌ ডাকাত দল। অবৈধ বালুমহাল পরিচালনা, নৌযানে চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন কারণে গত কয়েক মাসে জলদস্যু নয়ন-পিয়াস ও লালু বাহিনীর হাতে খুন হয় ডাকাত সর্দার বাবলা, স্যুটার মান্নান ও হৃদয় বাঘ। ওই এলাকায় জলদস্যুদের অপতৎপরতা কমাতে ২২ আগস্ট ইউনিয়নটির জামালপুর গ্রামের মেঘনা নদীর তীরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়।