প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৪:১৯ পিএম আপডেট: ১৭.০৮.২০২৫ ৪:২২ PM

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল চালু নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। চলতি বছরের শেষ নাগাদ যাত্রীসেবা শুরুর ঘোষণা থাকলেও এখন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগেই টার্মিনাল চালু করা।
বেবিচকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো এবং এক মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কিছু যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশের ওয়ারেন্টির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ দ্রুত টার্মিনাল চালুর ব্যাপারে চাপের মধ্যে রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেবিচকের এক সদস্য বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি ফেব্রুয়ারির আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু করতে। অনেক যন্ত্রপাতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই দেরি করলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে।”
ইতিমধ্যে টার্মিনালের নির্মাণকাজের ৯৯.৮৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট প্রথমবারের মতো যাত্রী বোর্ডিং ব্রিজ (পিবিবি) ও ভিজ্যুয়াল ডকিং গাইডেন্স সিস্টেম (ভিডিজিএস) ব্যবহার করেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতিতে বড় অগ্রগতি।
তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি সচল রাখতে চার শিফটে প্রায় ৬ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন প্রায় ৪ হাজার জন। যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং প্রথম দুই বছর বিমানের হাতে থাকবে, কনসোর্টিয়াম তদারকি করবে, আর তথ্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে বেবিচক।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা। যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। সবার স্বার্থ রক্ষা করেই দ্রুত চালুর চেষ্টা করছি।”
টার্মিনালটি চালু হলে বিমানবন্দরের যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা প্রায় তিনগুণ বাড়বে। বর্তমানে বছরে ৮ মিলিয়ন যাত্রী ও পাঁচ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডল করা হলেও নতুন টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে ২৪ মিলিয়নে পৌঁছাবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন সরকার আংশিক উদ্বোধন করেছিল টার্মিনালটির। ২০২৪ সালে পূর্ণাঙ্গ চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং বিদেশি উপকরণ সরবরাহে জটিলতার কারণে প্রকল্পের সময়সূচি বারবার পিছিয়েছে। বর্তমানে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় পূর্ণ উদ্বোধন আরও বিলম্বিত হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ