প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৩১ পিএম

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি তেল পরিবহন শুরু হয়েছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্পের ফলে সময় ও খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি চুরি ও অনিয়মও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় পদ্মা ওয়েল কোম্পানির ডেসপাস টার্মিনালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান পাইপলাইনটির উদ্বোধন করেন।
বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত নৌপথে ট্যাংকারে তেল পরিবহনে বিপিসির বার্ষিক খরচ প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা। একই পরিমাণ তেল পাইপলাইনে পরিবহন করতে খরচ হবে মাত্র ৯০ কোটি টাকা। এতে বছরে অন্তত ২২৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। সিস্টেম লস ও চুরি ঠেকানো গেলে সাশ্রয় আড়াই হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিপিসির বাস্তবায়নে এবং সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন। চট্টগ্রাম থেকে ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ হয়ে এটি নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। পথিমধ্যে পাইপলাইনটি ২২টি নদী ও খাল অতিক্রম করেছে। এর সঙ্গে নয়টি স্টেশন ও একাধিক আধুনিক ডিপো গড়ে তোলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার বরুড়া হয়ে তেল যাবে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ঢাকার ফতুল্লায়। কুমিল্লার বরুড়ায় নির্মিত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেটেড ডিপো, যেখান থেকে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশপাশের জেলায় তেল সরবরাহ করা হবে। সব প্রক্রিয়া কম্পিউটারাইজড প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রিত হবে।
পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ মেট্রিক টন এবং বছরে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ মেট্রিক টন তেল পরিবহন করা যাবে। আগে নৌপথে ট্যাংকারে নিতে ৪৮ ঘণ্টা লাগত, এখন সময় কমে আসবে মাত্র ১২ ঘণ্টায়।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় খোলা নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টা পরিবহন ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে।
২০১৮ সালে ২ হাজার ৮৬১ কোটি টাকায় অনুমোদন পাওয়া এই প্রকল্প করোনা পরিস্থিতির কারণে বিলম্বিত হয়। চলতি বছরের মার্চে কাজ শেষ হয়েছে এবং ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা।
প্রকল্প পরিচালক মো. আমিনুল হক জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ইতোমধ্যে পাঁচ কোটি লিটার ডিজেল কোনো ক্ষতি ছাড়াই সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “এখন থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ডিপোতে দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে তেল পৌঁছে দেওয়া যাবে।”
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ