
২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ‘বিশেষ অনুদান’ খাতের দেশের ৭ হাজার ১০০ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ১০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ৬ কোটি ৪১ লাখ ২ হাজার টাকার বিশেষ অনুদান দিচ্ছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে বরাদ্দ পাওয়া এই অনুদান বিতরণ করা হবে চলতি অর্থবছরের ‘বিশেষ অনুদান’ খাত থেকে।
অনুদানপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ১০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২৫০ জন শিক্ষক-কর্মচারী, ৪ হাজার ৪৭ জন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ২ হাজার ৭০২ জন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
গত ১৭ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখার উপ-সচিব লিউজা-উল-জান্নাহ স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।
পত্রে বলা হয়, চলতি অর্থ-বছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ‘বিশেষ অনুদান’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুদান বিতরণের হিসাব অনুযায়ী:-
১০১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: প্রতিটি ১ লাখ টাকা করে, মোট ১ কোটি ১ লাখ টাকা
২৫০ জন শিক্ষক-কর্মচারী: প্রতিজন ৩০ হাজার টাকা করে, মোট ৭৫ লাখ টাকা
৪ হাজার ৪৭ জন মাধ্যমিক শিক্ষার্থী: প্রতিজন ৮ হাজার টাকা করে, মোট ৩ কোটি ২৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা
১ হাজার ৪২৮ জন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী: প্রতিজন ৯ হাজার টাকা করে, মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা
১ হাজার ২৭৪ জন স্নাতক ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের শিক্ষার্থী: প্রতিজন ১০ হাজার টাকা করে, মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা
পত্রে আরও বলা করা হয়, বরাদ্দকৃত অর্থ বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে অনলাইনে পাঠানো হবে এবং শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি ‘নগদ’-এ পাঠানো হবে।
এর আগে, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের তৎকালীন সিনিয়র সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেশের সব বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এর আওতাধীন শিক্ষক এবং সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দের একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।
সেখানে বলা হয়, আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসককে সভাপতি এবং জেলা শিক্ষা অফিসারকে সদস্যসচিব করে ৯ সদস্যের একটি জেলা পর্যায়ের কমিটি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) কে আহ্বায়ক এবং উপ-সচিব/সিনিয়র সহকারী সচিব (বাজেট) কে সদস্য সচিব করে ১৩ সদস্যের একটি চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করতে হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকার উন্নয়নশীল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষক-কর্মচারী এবং দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায়, রোগাক্রান্ত, দরিদ্র, মেধাবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিশেষভাবে, ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ, হেপাটাইটিস, ডায়াবেটিস, পক্ষাঘাত, বক্ষব্যাধি, কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন এবং দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুদান বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, ‘সরকার শিক্ষাকে সবার জন্য সমভাবে বিস্তারের লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে অনগ্রসর কিন্তু ভালো ফল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ অনুদান বরাদ্দ অব্যাহত রয়েছে।’
সূত্র: বাসস
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম