
রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ভর্তি থাকা জুলাই অভ্যুত্থানে আহত চার যুবক বিষপান করেছেন।
রবিবার (২৫ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে তাদের দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা শঙ্কামুক্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বিষপানকারী চারজন হলেন- শিমুল, মারুফ, সাগর ও আখতার হোসেন (আবু তাহের)। তাদের মধ্যে একজন সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে ইনস্টিটিউটে পুনরায় ভর্তি হন।
জুলাই আন্দোলনে আহত এই চারজনের চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ সেলের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা ও সহায়তা চলছে।
ঘটনার পর রাতেই হাসপাতালে যান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আহতদের ও তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ও ছাত্রদলের চিকিৎসা শাখাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা, যাদের মধ্যে ছিলেন ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ডা. আ.ন.ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, ডা. মঞ্জুরুল আজিজ ইমন প্রমুখ।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মিডিয়া হেড মো. জাহিদ হোসেন জানান, বিষপানের পেছনে সুস্পষ্ট কোনো কারণ না থাকলেও, আহতরা দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের মানসিক চাপে ভুগছিলেন।
তিনি বলেন, ‘পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য কার্ড, গেজেট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আহতদের মাঝে হতাশা ছিল। এ নিয়ে আলোচনার সময়ই হঠাৎ বিষপানের ঘটনা ঘটে।’
ফাউন্ডেশনের নতুন সিইও কর্নেল (অব.) কামাল আকবরের সঙ্গে হাসপাতালের পরিচালকের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক চলাকালে ঘটনাটি ঘটে।
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে হাসপাতালে ৫৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এদের মধ্যে ৭-৮ জনের চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও বাকিরা সুস্থ। তবুও অনেকে মানসিকভাবে ভালো নেই, হাসপাতালে থেকেই নিরাপদ বোধ করছেন।’
তিনি আরও জানান, বিষপানকারী যুবকরা দুই দিন আগে নিজেরাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা এর আগে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও পুনরায় এসে ভর্তি হন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে আহতরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ৯ মাসেও সরকারের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, তারা সম্ভবত তেলাপোকা মারার তরল বিষ পান করেছিলেন। বিষের মাত্রা কম থাকায় গুরুতর জটিলতা দেখা দেয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম