প্রকাশ: শনিবার, ৩ মে, ২০২৫, ৯:২২ পিএম

রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের নিভা গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় রাশিদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ মে) সকাল ৯টার দিকে ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর রাশিদুলকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভগ্নিপতি ফজলুর রহমান জানান, দুই বছর আগে রাশিদুল ইসলামের কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। দেড় বছর আগে পুরো টাকা সুদসহ ফেরত দিলেও ইসলাম আরও টাকা দাবি করেন। টাকার দাবিতে ইসলাম রাশিদুলের চায়ের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। এছাড়া রাশিদুলের বাড়িতেও হামলা করেন। এই ঘটনার পর রাশিদুল ও তার পরিবার মাগুরার শ্রীপুর থানার চণ্ডিবর গ্রামে আশ্রয় নেন। সাত মাস আগে তারা বাড়ি ফিরে আসেন। তবে ইসলাম ও তার লোকজন রাশিদুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
গত শুক্রবার (০২ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাশিদুল ধান কাটা শ্রমিকের কাজ করে বাড়ি ফেরেন। শনিবার সকাল ৯ টার দিকে তিনি রুপিয়াট গ্রামে ধান ভাগ করার জন্য যাচ্ছিলেন। পথে নিভা গ্রামে পৌঁছালে ইসলাম, রফিক, খালিদ, সিন্টু, সুমন, সাদ্দাম ও ইকবালসহ ২০ থেকে ২৫ জন তার পথরোধ করেন। এ সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে রাশিদুল মারা যান।
পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনায় খালিদ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যদের মামলা দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম