
গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা মূল্যায়নে জাতিসংঘের সহায়তায় একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘকে অনুরোধ করা হবে ২০০৮-২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ের তিনটি নির্বাচন, শাপলা চত্বর, গণআন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোতে সাংবাদিকদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য।’
আজ শুক্রবার (০২ মে) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। আলোচনার বিষয় ছিল “জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশ: গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ”।
শফিকুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে দেশের মানুষ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা উপভোগ করছেন। কেউ সমালোচনা করলেও তাকে কিছু বলা হচ্ছে না। আমাদের হাতে কলম ভাঙার কিংবা প্রেসে তালা দেওয়ার কোনো নজির নেই।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘চট্টগ্রামে জুলাই বিপ্লবের সময় কিছু সাংবাদিক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়।’
আন্তর্জাতিক ও প্রতিবেশী দেশের কিছু মিডিয়া বিশেষ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
‘জামায়াতকে জড়িয়ে ছড়ানো একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও আসলে ল্যাটিন আমেরিকার মাদকচক্রের ঘটনা ছিল- এমন উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে ফ্যাক্ট চেকিং ইউনিট থাকা এখন সময়ের দাবি।’
প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে উঠেছিল। এই আইন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপও চলছে।’
আলোচনায় বিএফইউজে সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন বলেন, ‘বিপ্লবের বিপরীত শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। প্রশাসনের নীরবতা এদের সাহস জোগাচ্ছে।’
সভায় বক্তব্যকালে বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বরেন, ‘আংশিক সত্য নয়, পূর্ণ সত্যই সাংবাদিকতা। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নতুন আইন প্রয়োজন।’
আলোচনায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন সাংবাদিক, একাডেমিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম