প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০২৫, ৬:২২ পিএম আপডেট: ০১.০৪.২০২৫ ৭:০৭ PM

পবিত্র রমজান মাসে খাবার গ্রহণের নিয়মে পরিবর্তন ঘটে ধর্ম প্রাণ মুসলমানদের। খাবার খাওয়ার সময় তো বটেই, খাবারদাবারের ধরণ ও বদলায়। শাওয়াল মাসের চাঁদ উঠলেই উৎসবের ছোঁয়া লাগে মুসলমানদের মনের মাঝে। এক মাসের সংযম সাধনার পর হয় জম্পেশ খাওয়া-দাওয়া।
তবে খাবার খাওয়ার বালাই না থাকায় আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। গুরুপাক খাবার গ্রহণ করার বিপত্তিও আছে। ঈদের কয়েকটা দিন অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা কিংবা পেট ব্যথার মতো সমস্যায় ভোগেন কেউ কেউ। উৎসবে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ আয়োজনেরই চেষ্টা করেন সবাই। নিজের বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া তো চলেই, অন্যের বাড়িতে গেলেও গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী আপ্যায়ন করেন আন্তরিকভাবে।
নিয়ম মেনে খাবার না খেলে অসুস্থ হয়ে পরতে পারেন। সুস্থ জীবন যাপনের জন্য নিয়ম মেনে খাবার খাওয়া প্রয়োজন। তবে সুস্থ থাকতে হলে খাবর গ্রহণের কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সব সময়ই। এমনটাই বলছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মতলেবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘সামনে মজাদার অনেক খাবার থাকলেও খাওয়া যাতে বেশি না হয়ে যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। অল্প পরিমাণে বিভিন্ন পদের স্বাদ নিতে পারেন। তবে অনেক বেশি ধরনের খাবার একবারে না খাওয়াই ভালো। প্রয়োজনে বিরতি দিয়ে পরে আবার খাবেন। সবজি এবং ফল রাখুন উৎসবের এ আয়োজনেও। অতিরিক্ত তেল-চর্বিজাতীয় খাবার যতটা সম্ভব কম খাবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঘরে বসে সিনেমা দেখতে দেখতে খাবেন? না। একদম না। খাওয়ার সময় অন্য কাজ নয়। খাবার খাবেন মনোযোগ দিয়ে। নইলে বেখেয়ালে খাওয়া বেশি হয়ে যেতেই পারে। খাওয়ার সময় পেট মোটামুটি ভরে গেলেই খাওয়া শেষ করে ফেলুন। ভরপেট খাবেন না। খাবার খেয়েই সঙ্গে সঙ্গে পানি কিংবা পানীয় খাবেন না। খাবার খাওয়ার অন্তত মিনিট কুড়ি আগে কিংবা অন্তত মিনিট কুড়ি পর পানি বা পানীয় খাবেন। তাহলে হজমে গণ্ডগোলের ঝুঁকি কমবে।’
তিনি বলেন, ‘আদা, পুদিনাপাতা বা জিরা দিয়ে তৈরি পানীয় খেতে পারেন খাওয়ার মিনিট কুড়ি পর। এসব পানীয় হজম সহায়ক। কোমল পানীয় হজম সহায়ক নয়। কোমল পানীয় খাওয়ার পর ঢেকুর ওঠার অর্থ কিন্তু এই নয় যে আপনার পেট থেকে গ্যাস বেরিয়ে যাচ্ছে। কোমল পানীয় অর্থাৎ কার্বোনেটেড বেভারেজ খাওয়ার পর যা উঠে আসে, তা এই পানীরই এক বিশেষায়িত উপাদান। এটিই কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস হিসেবে বেরিয়ে আসে।’
তার মতে, টক ফলের রসে কারও কারও অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়তে পারে, এমনকি তা চিনি মিশিয়ে খাওয়া হলেও। খালি পেটে চা-কফি খাবেন না। খাবার খাওয়ার মিনিট কুড়ি পর খেতে পারেন। তবে সেটিও বারবার নয়। খাবার খাওয়ার পর খানিকটা টক দই কিংবা সামান্য মৌরি খেতে পারেন। খাবার খেয়েই শোবেন না। অন্তত দুই ঘণ্টা পর শোবেন। তিন বেলা খাবার খাওয়ার পর অন্তত মিনিট দশেক হাঁটুন হালকা গতিতে। খাবার টেবিল গোছাতে হাত লাগান সবাই মিলে। রোজই যাঁরা ঘরের কাজ করেন, তাঁদের সহযোগিতা করতে গিয়ে অন্যদেরও বেশ হাঁটাচলা করা হয়ে যাবে এভাবে। এমন নানা কাজে হজমের সমস্যার ঝুঁকি কমে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম