বস্ত্র-শিল্পে সুযোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, যা যাত্রা শুরুর এক দশকের মধ্যেই দেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষার একটি অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠেছে। অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত স্থায়ী ক্যাম্পাস, সমৃদ্ধ গবেষণাগার, পরিপূর্ণ গ্রন্থাগার সহ ৩৫ জন মেধাবী দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার সার্বক্ষণিক তত্বাবধানে সুনাম ও সাফল্যের সহিত পরিচালিত হয়ে আসছে বিভাগটি। কর্তৃপক্ষের যোগ্য ও দক্ষ পরিচালনা, দেশের স্বনামধন্য টেক্সটাইল ব্যক্তিত্বের সরাসরি পর্যবেক্ষণ বিভাগটিকে গ্রহণযোগ্যতার শীর্ষে স্থান দিয়েছে।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সর্বদা মানসম্মত শিক্ষা নীতিতে বিশ্বাসী এবং তা পরিপূরণে বদ্ধ পরিকর। শিক্ষকতা ও বস্ত্র-শিল্পে অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে সর্বাপেক্ষা নতুন বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্তিতেএবং ইউজিসির অনুমোদনে টেক্সটাইল বিভাগের পাঠ্যক্রম হয়ে উঠেছে অনন্য যা শিক্ষার্থীদের বর্তমান বিশ্বের জন্য উপযোগী করে তুলছে। এখানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মূল ধারার চারটি বিভাগ যথা তুলা থেকে সুতা তৈরির জন্য- ইয়ার্ন ম্যানুফ্যাকচারিং বা স্পিনিং, সুতা থেকে কাপড় উৎপাদনের জন্য- ফেব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং, কাপড় রঙিন করার কৌশল সমুহের জন্য – ওয়েট প্রসেসিং টেকনোলজি বা ডায়িং এবং সর্বশেষ কাপড় থেকে পরিধেয় বস্ত্র তৈরিতে- অ্যাপারেল ম্যানুফ্যাকচারিং এর উপর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী দেওয়া হয়। তত্ত্বীয় বিষয় এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে শেখানোর উদ্দেশ্যে ল্যাবরেটরি এক্সপেরিমেন্ট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর এর উপর জোর দেওয়া হয়।
টেক্সটাইল সেক্টরে টেকসই উন্নয়নকে সামনে রেখে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে এই বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। যেমন ফেলে দেওয়া কাপড় থেকে পুনরায় ব্যাবহার যোগ্য সুতা, জুট থেকে পরিবেশবান্ধব নন-ওভেন, টেক্সটাইলের বর্জ্য পানির পুনারায় ব্যবহার করে কাপড় রঙ করা, আগুন প্রতিরোধী কাপড় উতপাদন, সেলফ-চারজিং এন্ড লাইটিং টি-শার্ট সহ সমস্যা ও সমাধানের হরেক রকম সে আয়োজন। শুধু গবেষণাই নয় ইন্ডাস্ট্রি পর্যায়ে এর সম্ভাবতা যাচাই সহ অনুসন্ধানকৃত তথ্য ও উপাত্ত স্বীকৃতি অর্জন করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে। সর্বশেষ সেমিস্টার এর আব্যশিক কাজ হিসেবে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে এই গবেষণা কাজ ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে হয়। সহযোগী অধ্যাপক ওবিভাগীয় প্রধান জনাব জি এম ফয়সাল বলেন “আমরা টেক্সটাইল শিল্পের উদ্ভত সমস্যাগুলি নিয়ে কাজ করছি এবং টেক্সটাইল শিল্পকে শুধুমাত্র গার্মেন্টস মেকিং এ সীমাবদ্ধ না রেখে এর ব্যাপকতা ও বিস্তৃতির সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে চাই।
“ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট এবং কম্প্রিহেনসিভ ভাইভা” শিরোনামের এই কোর্সটি তত্ত্বীয় শিক্ষার পরিপূর্ণতার উদ্দ্যেশে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে ইন্ডাস্ট্রি ও বিভাগীয় সুপারভাইসর এর নিগূঢ় তত্ববধানে শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রিতে নুন্যতম ৬০ কর্মদিবস অতিবাহিত করতে হয় এবং একাডেমিক প্রসেস এর মধ্য দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। ফাইনাল সেমিস্টারের শিক্ষার্থী পারভেজ হাসান ফোনে বলেন “এখন ইন্টার্ন এ আছি। নতুন নতুন অনেক বিষয় শিখছি। বইয়ে যা পড়েছি তার চাক্ষুষ প্রমাণ এখানে দেখছি। বিশালতা ও বিচিত্রতায় আমি মুগ্ধ। ইদের পর ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট এবং কম্প্রিহেনসিভ ভাইভা হবে। দোয়া করবেন।
টেক্সটাইল শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও বর্তমান সমস্যা সমাধানের কথা বিবেচনা করে প্রতিনিয়তই শিক্ষাকার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়, নতুন বিষয় সংযোজন ও পুরোনো বিষয় পরিমার্জন করা হয়। এই সমস্ত বাস্তবিক সমস্যা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে ও সমাধান খুঁজতে সেমিস্টার জুড়ে বিভিন্ন গবেষক, ইন্ডাস্ট্রি ব্যক্তিত্ব, দেশ ও বিদেশের সেরা অধ্যাপকদের নিয়ে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন প্রদর্শনীর, সেমিনার ও কর্মশালার। এছাড়াও কিছু বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য চালু করা হয়েছে বিভিন্ন শর্টকোর্সের যা শিক্ষার্থীরা একাডেমিক শিক্ষার ফাঁকেফাঁকে সম্পন্ন করে থাকেন।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে ও সুপ্ত প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রম যেমনঃ- বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, কুইজ প্রতিযোগিতা, সংগীত সন্ধ্যা, পিকনিক ইত্যাদিরআয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ মানুষ গড়ে তুলতে সহায়ক হিসবে আছে ল্যাংগুয়েজ ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, সোশ্যাল সার্ভিস ক্লাব, ডিবেট এন্ড পাবলিক স্পিকিং ক্লাব, টেক্সটাইল আর্ট এন্ড ফটোগ্রাফি ক্লাব, স্পোর্টস ক্লাব, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং এন্ড জব প্লেসমেন্ট ক্লাব এবং রিসার্চ এন্ড পাবলিকেশন্স ক্লাব।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে বিদেশী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় যেমন মার্মারা বিশ্ববিদ্যালয় (তুরস্ক), উহান বিশ্ববিদ্যালয় (চীন) ইত্যাদির সাথে পারস্পরিক সমঝোতা ও সহযোগীতার সম্পর্ক রয়েছে এবং আরো কয়েকটি বিশব্বিদ্যলয়ের সাথে এই সম্পর্ক অগ্রসরমান। এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের উল্লেখিত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশব্বিদ্যলয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ সমস্ত মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের টেকসই উন্নয়নের জন্য সময়োপযোগী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার গড়ে তোলার এ মঙ্গলযজ্ঞে নিবেদিত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।