প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৩ পিএম

সোনারগাঁয়ে পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, দেড় শতাব্দীর সম্প্রীতির ঐতিহ্য
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের ইউসুফগঞ্জ এলাকায় পাশাপাশি অবস্থিত মসজিদ ও মন্দির। একদিকে মসজিদে আজান ও নামাজ, অন্যদিকে মন্দিরে পূজা-অর্চনা। ধর্মীয় বিশ্বাস আলাদা হলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে এভাবেই সম্প্রীতির পরিবেশে বসবাস করছেন তাঁরা।
এলাকায় অবস্থিত ইউসুফগঞ্জ জামে মসজিদের পাশেই রয়েছে শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮৩ সাল থেকে এ দুই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে সম্প্রীতির ঐতিহ্য চলে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে পাশাপাশি থাকা প্রতিষ্ঠান দুটিতে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছেন মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু বক্কর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দির দেখে আসছি। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ যার যার ধর্ম পালন করেন। একে অপরের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। এভাবেই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কেয়া মনি বলেন, এখানে হিন্দু-মুসলমান দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে বসবাস করছেন। ধর্ম আলাদা হলেও আমাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা রয়েছে। আমরা চাই, এই সম্প্রীতির বন্ধন যেন সব সময় অটুট থাকে।
স্থানীয় গৃহবধূ কল্পনা রানী বলেন, মসজিদে যখন আজান হয়, তখন আমরা বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখি। আমরাও যেন নির্বিঘ্নে পূজা-অর্চনা করতে পারি, সে বিষয়ে মুসলমান ভাইয়েরা সহযোগিতা করেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে চলেন। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে আমাদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।
শ্রী শ্রী সাধুবাবা সম্ভুনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজয় দাশ হরি বলেন, আজানের সময় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন, আর পূজার সময় আমরাও নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করি। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এখানে সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ