
রাজধানীর পল্লবী থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা ও কর্নেল (অব.) দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান জানা, রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের শনাক্ত করা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মেকন ডিজিটাল আলামতের সন্ধান পাওয়া, আসামিদের পরিচালিত রাষ্ট্রবিরোধী অন্য কোনো ওয়েবসাইট বা পেজ রয়েছে কি না, তা জানা এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন ও দেশবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন রোধ করা।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা নিজ বাসায় অবস্থান করে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ এবং ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংসতামূলক উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘কালা আজকা’ ও ‘কম’ নামে পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট তৈরি এবং ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনা করছেন আসামিরা বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, কাজী গুলশান আরা ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের প্রাক্কালে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। পরে সহযোগী ১০১ জন আসামিকে নিয়ে ‘সেনা পরিষদ’ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।
আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এই সংগঠনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি এবং বিভিন্ন উৎসবে অংশ নিয়ে সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশের মাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে রিমান্ড আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ