প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় সরকারকে তেলের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিত।
সোমবার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট প্রতিদিন নতুন মাত্রা নিচ্ছে এবং এর সঙ্গে জ্বালানি আমদানির ব্যয়ও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে কোনো বিকল্প ছিল না।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ২০৫ টাকা, যেখানে মূল্য সমন্বয়ের আগে দেশে ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা। ফলে প্রতি লিটারে সরকারকে ৯০ টাকা ভর্তুকি দিতে হতো।
মূল্য সমন্বয়ের পরও ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানান তিনি। তার হিসাব অনুযায়ী, দাম সমন্বয় না করলে বছরে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হতো।
অনিন্দ ইসলাম অমিত আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কম রাখলে ভর্তুকির চাপ বাড়ার পাশাপাশি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা জ্বালানি তেল প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মূল্য সমন্বয়ের পেছনের বাস্তব পরিস্থিতি ও সরকারের সীমাবদ্ধতা জনগণ বুঝতে পারবেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ