
প্রতিদিন সকালে একই খাবার খাওয়াকে সাধারণভাবে ক্ষতিকর বলা যায় না। বরং ব্যস্ত জীবনে একই ধরনের নাস্তা রাখলে খাবারের পরিকল্পনা সহজ হয়, সময় বাঁচে এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও সুবিধাজনক হতে পারে। তবে সেই নাস্তায় শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একই খাবার প্রতিদিন খাওয়ার ক্ষেত্রে মূল ঝুঁকি হলো খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য কমে যাওয়া। কোনো একটি নাস্তায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন বা ফাইবারের ঘাটতি থাকলে দীর্ঘদিন একই খাবার খাওয়ার ফলে সেই ঘাটতি পূরণ নাও হতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেয়ে যদি প্রোটিন ও ফাইবার কম গ্রহণ করা হয়, তাহলে নাস্তাটি পুষ্টিকর নাও হতে পারে।
তাই প্রতিদিন নাস্তা বদলানোর প্রয়োজন নেই। বরং একটি সুষম নাস্তার কাঠামো তৈরি করে তার উপাদানগুলোতে কিছুটা পরিবর্তন আনা যেতে পারে। যেমন—গোটা শস্যের সঙ্গে ডিম, দই, পনির, টোফু বা ডালের মতো প্রোটিনের উৎস রাখা যেতে পারে। এর সঙ্গে ফল বা সবজি এবং বাদাম বা বীজ যোগ করলে নাস্তাটি আরও পুষ্টিকর হতে পারে।
সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে ফল, শস্য ও প্রোটিনের উৎস পরিবর্তন করলেও খাবারে বৈচিত্র্য আসে। যেমন একদিন ডিম ও আটার রুটি, অন্যদিন দই ও ফলের সঙ্গে ওটস, আবার অন্যদিন ডাল ও সবজি দিয়ে নাস্তা করা যেতে পারে।
সকালের নাস্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
২০২৪ সালে The Journal of Nutrition, Health & Aging-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় সকালের খাবারের গুণমান ও পরিমাণের সঙ্গে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। গবেষণায় সকালের খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং পরিমিত ক্যালরি গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
তবে শুধু সকালের খাবারকে স্বাস্থ্যকর করলেই পুরো দিনের খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না। দিনের সব খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, ফল-সবজি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাহলে প্রতিদিন একই নাস্তা খাওয়া যাবে?
অবশ্যই, যদি সেই নাস্তাটি পুষ্টিগতভাবে সুষম হয়। একই নাস্তা খেলে সমস্যা হওয়ার চেয়ে নাস্তায় কী ধরনের খাবার রয়েছে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে শরীর বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ পায়।
সবচেয়ে সহজ নিয়ম হলো—গোটা শস্য + প্রোটিন + ফল/সবজি + স্বাস্থ্যকর চর্বির উৎস—এই চারটি বিষয় মাথায় রেখে সকালের নাস্তা তৈরি করা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি