প্রকাশ: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩০ AM

চেক ডিজঅনার মামলায় চেকে উল্লেখিত আর্থিক দায় সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করা হলে এবং বাদী ও আসামির মধ্যে আপস-সমঝোতা সম্পন্ন হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানো বা তার কারাদণ্ড বহাল রাখা সমীচীন নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ধারায় দায়ের করা একটি ক্রিমিনাল আপিল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ৬ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। মামলাটি ছিল মো. আবদুল হান্নান মাস্টার বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, চেক ডিজঅনারের মামলার মূল উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া বা কারাবন্দি রাখা নয়; বরং চেকে উল্লিখিত পাওনা টাকা আদায় নিশ্চিত করা। ফলে মামলার আর্থিক দায় সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ হয়ে গেলে এবং পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেলে কারাদণ্ড বহাল রাখার প্রয়োজনীয়তা থাকে না।
সংশ্লিষ্ট মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তি চেকের টাকা এবং ব্যাংকের পাওনা পুরোপুরি পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে পক্ষগুলোর মধ্যে আপস-মীমাংসাও সম্পন্ন হয়। এসব বিষয় বিবেচনা করে হাইকোর্ট অধস্তন আদালতের দেওয়া এক বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে দেন।
এ ছাড়া আপিলের আগে অধস্তন আদালতে জমা দেওয়া ১৪ হাজার ১০০ টাকা ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সকে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এই রায় চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা পরিশোধ ও পারস্পরিক সমঝোতার গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি চেক মামলায় টাকা পরিশোধ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কারাদণ্ড বাতিল হবে। নির্দিষ্ট মামলার পরিস্থিতি, মামলার পর্যায় এবং আদালতের আদেশের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি