প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:২২ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এই ঘোষণা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর আগে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করা হয় এবং পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আদেশটি জারি করেন।
জুলাই জাতীয় সনদের চারটি মূল প্রস্তাব নিয়ে একটি মাত্র প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। ভোটাররা ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে মতামত জানাবেন। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে ফল এলে আগামী সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হবে এবং দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে (পিআর পদ্ধতি) ১০০ সদস্য নিয়ে গঠিত হবে উচ্চকক্ষ।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বেলা ১১টায় প্রধান উপদেষ্টার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গণভোটের ব্যালটে ব্যবহৃত প্রস্তাবিত প্রশ্নটি প্রকাশ করা হয়।
প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়েছে, “আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”
এর অধীনে চারটি প্রস্তাব উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাব গুলো হল:
ক. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা।
খ. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন এবং প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ সৃষ্টি; সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা।
গ. নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও কমিটির প্রধান নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণসহ ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিজয়ী রাজনৈতিক দলগুলোর বাধ্যবাধকতা।
ঘ. জুলাই সনদে উল্লেখিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কার্যকর করা।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে