
দেশে নির্বাচিত সরকার ছাড়া ব্যবসার পরিবেশের উন্নতি হবে না এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরবে না বলে অভিমত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বুধবার (৫ নভেম্বর) গুলশানের একটি হোটেলে ইংরেজি আয়োজিত অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ক সেমিনারে ব্যবসায়ীরা এ মত প্রকাশ করেন।
সেমিনারে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে শ্রম আইন ও শ্রমিক সংগঠন গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ইস্যুতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি আগামী নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়ার জন্য জাতিসংঘে আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ।
বাংলাদেশ থাই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, “শ্রম আইন ও শ্রমিক সংগঠন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এখন কেন নেওয়া হচ্ছে? তিন মাসের মধ্যে নির্বাচিত সরকার আসবে। এখন আমরা অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা বলছি, কিন্তু কিছু হচ্ছে না। কোনো মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে না।”
নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান ব্যবসা–বাণিজ্যের অবস্থায় এলডিসি উত্তরণের সময় এখন উপযুক্ত নয়। আমরা ১৬টি ব্যবসায়ী সংগঠন থেকে এই দাবি জানিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে আবেদনের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হোক।”
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, “দেশে এখন নির্বাচিত সরকার দরকার। আগামী ১০-১৫ বছর মানুষ ভোটে নির্বাচিত সরকার না পেলে অনেক সমস্যা সমাধান হবে না।”
বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, “সুশাসন ছাড়া কোনো দেশের ব্যবসা–বাণিজ্য পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। ক্রেতারা আতঙ্কিত, তারা পণ্য কিনতে চায় না। একমাত্র সমাধান নির্বাচন।”
প্রধান অতিথি লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যবসা সহজ করার পরিবেশ ৯৯ শতাংশ খারাপ ছিল। এখন ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। কেন তা দ্রুত হচ্ছে না, তা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিঙ্গেল উইন্ডো চালু হওয়ার কারণে দুই মাসে প্রায় ১২ লাখ সরাসরি সাক্ষাৎ কমেছে, অর্থাৎ ১২ লাখ বার এনবিআরে কাগজ নিয়ে যাওয়া লাগেনি।”
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ নেই। যেসব জায়গায় বিপজ্জনক অবস্থা, সেখানে কেউ বিনিয়োগ করবে না।”
ইউসিবির চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, “খেলাপি ঋণের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা না হলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আহসান-উজ জামান এবং আকিজ বশির গ্রুপের প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ