প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ১:৩৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে মাসখানেক আগে থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বর্ষা ও তার প্রেমিক মাহির রহমান।
বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে সাংবাদিকদের জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই হত্যার পরিকল্পনা শুরু করেন বর্ষা ও মাহির। হত্যার দিন মাহিরের সঙ্গে আরও দুই বন্ধু ছিল। তারা নতুন দুটি সুইচ গিয়ার (ছুরি) কিনে নিয়ে আসে। পরে মাহির এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে জুবায়েদকে হত্যা করে।
ওসি বলেন, “এটা সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হত্যা। বর্ষা ও মাহিরের দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু পরে বর্ষা জুবায়েদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। একপর্যায়ে মাহিরকে সে জানায়, এখন তার জুবায়েদকে ভালো লাগে। কিছুদিন পর আবার মত পরিবর্তন করে বলে জুবায়েদকে আর ভালো লাগে না। এরপরই মাহিরকে সঙ্গে নিয়ে জুবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করে বর্ষা।”
প্রাথমিকভাবে বর্ষা হত্যার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মাহিরের মুখোমুখি করলে দুজনেই পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে বলে জানান ওসি রফিকুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় বর্ষাসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে।”
জানা গেছে, নিহত জুবায়েদ হোসাইন (২২) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্যও ছিলেন।
গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামের বাড়ির সিঁড়িতে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। তিনি সেখানে বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।
ঘটনার পর বংশাল থানার সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে এবং তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করে রাখে। পরে রাত ১১টার দিকে পুলিশ আরমানিটোলার নিজ বাসা থেকে বর্ষাকে হেফাজতে নেয়। সোমবার (২০ অক্টোবর) জুবায়েদের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর