
সংগৃহীত ছবি
রোদ-বৃষ্টির মধ্যে এডিস মশার লার্ভা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে। গত বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু সবচেয়ে বেশি ধরা পড়েছিল, আর এবার সেপ্টেম্বরেই সবচেয়ে বেশি রোগী ও মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৮৫১ জন, মারা গেছেন ২৬ জন।
চলতি মৌসুমে দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৫৩ হাজার ছাড়িয়েছে এবং অন্তত ২২৪ জন মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি বৃষ্টি ও অস্থির আবহাওয়া চলতে থাকে, তাহলে অক্টোবরেই আরও বেশি রোগী ও মৃত্যু হতে পারে। ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিস্তার অব্যাহত থাকতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থেমে থেমে বৃষ্টি ও অস্থির আবহাওয়া এডিস মশার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করছে। রাস্তা, বাসা, পলিথিন, খাবারের প্যাকেট বা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানি থেকেই মশার বিস্তার ঘটছে। তাই বাসা-ঘর পরিষ্কার রাখা, তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া, মশারি ব্যবহার করা এবং জ্বরের সঙ্গে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতি মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর ধারা এই রকম: জুনে ভর্তি ৫,৯৫১, মৃত্যু ১৯; জুলাইতে ভর্তি ১০,৬৮৪, মৃত্যু ৪১; আগস্টে ভর্তি ১০,৪৯৬, মৃত্যু ৩৯; সেপ্টেম্বরেই সর্বোচ্চ ভর্তি ১৫,৮৬৬, মৃত্যু ৭৬; অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে ভর্তি ৫,৮৫১, মৃত্যু ২৬।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, “মাঝে ডেঙ্গু কিছুটা কমেছিল, কিন্তু বৃষ্টির কারণে আবার বৃদ্ধি পেয়েছে। অক্টোবরেও এই ধারা চলতে থাকবে।”
বয়স অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা, সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজারের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সের মানুষ কর্মজীবী এবং বেশি চলাফেরা করেন, তাই মশার সংস্পর্শ বেশি।
সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, “মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে, যতদিন বৃষ্টি থাকবে, ডেঙ্গুর ঝুঁকি থাকবেই। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্মায়। তাই বাসায় ফুলের টব বা অন্য কোনো পাত্রে পানি জমতে দেওয়া চলবে না।”
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, “সব জ্বরের রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে এসে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। দেরিতে আসলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। অল্প অবহেলাতেও বড় ক্ষতি হতে পারে।”
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে একদিনও মৃত্যু হয়নি, কিন্তু ওই দিনও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০৮ জন। এ পর্যন্ত চলতি বছরে ভর্তি হয়েছেন ৫৩,১৯৩ জন এবং মারা গেছেন ২২৪ জন। ঢাকা মহানগরে ভর্তি হয়েছেন ৮৭, বরিশালে ১১৫, চট্টগ্রামে ৮৫, ময়মনসিংহে ২১ জন। মৃত ২২৪ জনের মধ্যে ১১৭ পুরুষ ও ১০৭ নারী। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬১.১% পুরুষ এবং ৩৮.৯% নারী।