প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৭ পিএম আপডেট: ৩০.০৯.২০২৫ ৬:১২ PM

খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) দায়ী করেছেন খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান মাহমুদ।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে খাগড়াছড়ি সেনানিবাসে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনা পুঁজি করে সাধারণ পাহাড়ি নারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে সংগঠনটি।
কমান্ডারের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে দেশীয় ও অটোম্যাটিক (স্বয়ংক্রিয়) অস্ত্রে গুলি চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অস্থিতিশীল করা এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির বিষয়টি একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। “এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যথাযথ প্রমাণাদি আছে,” জানান তিনি।
সেনা কর্মকর্তা বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদভাবে পালন করতে পারছে। ইউপিডিএফকে দেশের স্বার্থে অবরোধ প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তবে পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরে এক স্কুলছাত্রীর ধর্ষণ অভিযোগের পর ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’ ছয়দিন ধরে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়কে অনির্দিষ্টকালীন অবরোধ চালাচ্ছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারায় সহিংসতায় তিন পাহাড়ি নিহত হন, বহু মানুষ আহত হন, এবং রামসু বাজারসহ ঘরবাড়ি ও অফিসে অগ্নিসংযোগ হয়। শহর ও উপজেলায় দোকানপাট বন্ধ, যানবাহন চলাচল সীমিত এবং রাস্তায় সেনা, বিজিবি ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হবে। সোমবার আন্দোলনকারী ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ছয় প্রতিনিধি প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারসহ আট দফা দাবি উপস্থাপন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ করা হলেও বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ