প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:২৯ পিএম আপডেট: ২৮.০৯.২০২৫ ৯:৪৫ PM

নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতন বৈষম্য নিরসন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন। তারা জানিয়ে দিয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে ফিরবেন না।
ফলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ১২ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ও অন্যান্য রিপোর্টিং কার্যক্রমও স্থগিত থাকবে।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনটির নেতারা। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর তৃণমূলে শিশুদের প্রাণঘাতী ১০টি রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে কাজ করলেও এখনও তারা টেকনিক্যাল পদমর্যাদা থেকে বঞ্চিত। এতে সরকারি অন্যান্য কর্মচারীদের তুলনায় তারা চরম বেতন বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য সচিব ও মহাপরিচালক এবং ২০২০ সালে স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি।
বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় দাবি আদায় পরিষদের সদস্য সচিব মো. ফজলুল হক চৌধুরী বলেন, “আমরা শুধু আশার বাণী শুনে যাচ্ছি। তাই ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চালিয়ে যেতে বাধ্য হবো।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বৈষম্যের শিকার ২০ হাজার স্বাস্থ্য সহকারীর দাবি পূরণে এগিয়ে আসবে।
২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সভায় ৬৪ জেলার নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।
স্বাস্থ্য সহকারীদের ছয় দফা দাবি
১. নিয়োগবিধি সংশোধন
২. শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে স্নাতক সংযোজন
৩. ১৪তম গ্রেড প্রদান
৪. ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদান
৫. বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ
৬. অন্যান্য ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন
স্বাস্থ্য সহকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন—এবার শুধু আশ্বাসে আন্দোলন থামানো যাবে না। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ইপিআই কার্যক্রম ও টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ