হত্যাকারীরা বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেনি, ভিসেরা রিপোর্টে চেতনানাশক বা বিষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি
প্রকাশ: রবিবার, ৪ মে, ২০২৫, ১২:২৯ AM

ডিএনএ প্রোফাইলের অস্পষ্টতার কারণে আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ড তদন্তে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে নতুন করে সাত সাংবাদিকসহ মোট ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে কোনো নতুন তথ্য বা কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলেনি। তদন্তে এখনও আটকে আছে র্যাবের আগে করা ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ে পাওয়া দুজন অজ্ঞাতপরিচয়ের তথ্যে। তাদের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তদন্তে অগ্রগতি নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে সাগর-রুনি খুন হন। ঘটনার সময় তাঁরা ছেলে মেঘকে নিয়ে একই খাটে শুয়ে ছিলেন। ভিসেরা রিপোর্টে চেতনানাশক বা বিষের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকারীরা বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করেনি এবং বাসায় আগে থেকে কেউ অবস্থান করছিল না। হত্যাকাণ্ডে সাগর বাধা দিতে পারেন— এমন আশঙ্কায় তাঁর হাত-পা বাঁধা হয়। নারী হিসেবে রুনিকে দুর্বল ভাবায় তাঁর হাত-পা বাঁধা হয়নি।
টাস্কফোর্স জানায়, ঘটনাস্থলে পাওয়া ব্লাড প্যাটার্ন ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথমে রুনিকে হত্যা করা হয়, পরে সাগরকে। ঘটনাস্থলে চারজনের ডিএনএ পাওয়া গেছে— এর মধ্যে দুজন সাগর ও রুনি। বাকি দুজন পুরুষ, কিন্তু তাঁদের পরিচয় আজও অজানা। নমুনায় ৫-৬ জনের ডিএনএ থাকায় তা নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হত্যার পরদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তার আগেই স্থানীয়দের উপস্থিতি ও গণমাধ্যমকর্মীদের চলাচলে অনেক আলামত নষ্ট হয়ে যায়। রান্নাঘরের বারান্দায় ১৪.৫ ও ৮.৫ ইঞ্চির একটি নতুন ভাঙা অংশ পাওয়া যায়, যেটি দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারে। তবে সেখানে পূর্ণাঙ্গ পায়ের ছাপ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাগর-রুনির বাসা থেকে উদ্ধার আলামতের ডিএনএ যুক্তরাষ্ট্রের ইনডিপেনডেন্ট ফরেনসিক সার্ভিসেস (আইএফএস) ল্যাবে পরীক্ষা করে র্যাব। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় দুজন পুরুষের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে নতুন তদন্তে এমন কোনো সন্দেহভাজন পাওয়া যায়নি, যার সঙ্গে ওই ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর