প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৪, ৫:২৫ পিএম আপডেট: ২৪.১০.২০২৪ ৫:২৯ PM

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়ের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। মাত্র ২২ শতাংশ জমিতে ৩০ হাজার টাকা খরচ করে এ পর্যন্ত ক্ষেত থেকে লাউ বিক্রি করেছেন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। বলছি উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাল্লারপার গ্রামের কৃষক মজিদ বক্সের কথা। দেশীয় পদ্ধতিতে কোনও প্রকার কীটনাশক ছাড়া চাষ করে ইতিমধ্যে এলাকায় সফল লাউ চাষি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
সরেজমিনে কৃষক মজিদ বক্সের লাউ ক্ষেতে গেলে দেখা যায়, মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করেছেন মজিদ বক্স। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে গাছগুলোর গুণগতমান ঠিক রাখায় প্রতিটি গাছের ডগায় প্রচুর পরিমাণে লাউ ধরেছে। এই পদ্ধতিতে লাউ চাষে রোগ-বালাই অনেক কম হওয়ায় ফলনও ভাল পাওয়া যায় বলে জানান মজিদ বক্স। তার এ ক্ষেতে এখন হাজারের অধিক ছোট-বড় লাউ ঝুলছে। আলাপকালে লাউ চাষি মজিদ বক্স বলেন, লাউয়ের চাষাবাদ করে জমি থেকে যেমন আশানুরূপ ফলন পাচ্ছি সেই সঙ্গে বাজারে দামও পেয়ে আসছি ভালো। জমিতে এখনও ৫০-৬০ হাজার টাকার লাউ আছে। লাউয়ের চাষ করে এত লাভ হবে, কখনও ভাবিনি। তাই আগামীতে লাউ চাষ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোনও সহযোগিতা পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে মজিদ বক্স বলেন, কৃষি অফিস আমাকে কোনো রকম সহযোগিতা করেনি। নিজ উদ্যোগে আমার এই পর্যন্ত আসা। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যদি একটু সহযোগিতা পেতাম, তাহলে লাউ চাষ করে আরও বেশি লাভবান হতাম।
এরই মধ্যে সফল লাউ চাষি হিসেবে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন দেখতে ও পরামর্শ নিতে আসছেন তার কাছে। লাউয়ের ক্ষেত দেখতে আসা তাজুল ইসলাম বলেন, মজিদ বক্সের লাউয়ের ক্ষেত দেখলে সবারই ইচ্ছে করবে লাউয়ের চাষ করার। তিনি একজন আধুনিক মানের আদর্শ কৃষক। স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, আমি প্রায় সময় মজিদ বক্সের জমি থেকে লাউ কিনি। কীটনাশক ছাড়া লাউ, তাই বাড়ির সবার পছন্দ। দামও ৭০-১০০ টাকার মধ্যে। এছাড়াও এখানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা ও স্থানীয় লোকজন এসে কিনে নিয়ে যায়।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, কৃষকরা আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা অবশ্যই সহযোগিতা করি। আর মাঠ পর্যায়ে দেখেছি কিছু নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখন সারা বছরই সবজির চাষ হয়। কৃষকরা জৈব পদ্ধতিতে বিষমুক্ত লাউ চাষ করছেন। বাজারে লাউয়ের চাহিদা থাকায়, নায্যদামে বিক্রি করতে পেরে লাভবান হয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে মাচায় লাউয়ের চাষ বেশ জনপ্রিয় দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকেরা লাউ চাষের বিষয় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আমি আশা করছি এ এলাকায় লাউ চাষের সম্প্রসারণ ঘটবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর