
সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় অনেকেই ছুটির দিনে বেশি সময় ঘুমিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেন। কেউ দুপুর পর্যন্ত ঘুমান, আবার কেউ আগের রাতেই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সপ্তাহজুড়ে জমে থাকা ঘুমের ঘাটতি কি একদিন বেশি ঘুমিয়েই পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব?
বিভিন্ন গবেষণার বরাতে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘুমের ঘাটতি পূরণে কিছুটা বাড়তি ঘুম উপকারী হতে পারে। এমনকি এক রাত খুব কম ঘুমানোর পর পরের রাতে দুই ঘণ্টা অতিরিক্ত ঘুমও শরীরকে কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করতে পারে। তবে সারা সপ্তাহের ঘুমের ঘাটতি একদিনে পুরোপুরি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। কিশোর-কিশোরীদের প্রয়োজন হয় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ‘স্লিপ ডেবট’ বা ঘুমের ঋণ তৈরি হয়। যত বেশি সময় জেগে থাকা হয়, ততই ঘুমের চাপ বাড়তে থাকে।
ঘুমের সঙ্গে শরীরের জৈবঘড়িরও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আলো-অন্ধকার, খাবারের সময় ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের মতো বিষয়গুলো দেহঘড়ির ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে। ছুটির দিনে খুব বেশি দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে ওই রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। ফলে পরের কর্মদিবসে আবার পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ঘুমবিষয়ক মনোবিজ্ঞানী মেলিন্ডা ক্যাসমেন্টের মতে, এভাবে নিয়মিত ঘুমের সময় পরিবর্তন করা অনেকটা প্রতি সপ্তাহে একবার করে টাইম জোন পরিবর্তনের মতো।
তবে ঘুমের ঘাটতি পূরণে বাড়তি ঘুম যে একেবারেই কাজে আসে না, তা নয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এক রাতে মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমানো ব্যক্তিদের শরীরে কিছু শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বেড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে বেশি ঘুমালে সেই মাত্রা কিছুটা কমে আসে। সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা ঘুমের সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতেও দেখা গেছে।
আরেক গবেষণায় ১১ জন পুরুষের ঘুমের সময় ছয় রাত ধরে ৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৪ ঘণ্টা করা হয়। এতে শরীরের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও ইনসুলিনের কার্যকারিতায় নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তাদের দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া হলে শারীরিক সূচকগুলো আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
নিয়মিত কম ঘুমের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও রয়েছে। গবেষণাগুলোতে ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে মনোযোগ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও স্থানিক দিকনির্ণয় ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গেও দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতির সম্পর্কের কথা গবেষণায় উঠে এসেছে।
তবে ছুটির দিনে কিছুটা বেশি ঘুমানো একেবারে অপ্রয়োজনীয় নয়। সপ্তাহজুড়ে ঘুম কম হলে বাড়তি ঘুম শরীরকে আংশিকভাবে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু প্রতিদিনের ঘুমের ঘাটতি নিয়মিতভাবে জমতে দেওয়া এবং পরে একদিনে তা পূরণ করার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়।
তাই সপ্তাহান্তে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছুটা বেশি ঘুমানো যেতে পারে। তবে ঘুমের সময় প্রতিদিন যতটা সম্ভব নিয়মিত রাখা এবং পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোই ঘুমের ঘাটতি এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি