বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান, বড় সমস্যা দুর্নীতি: জেট্রো
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:২৩ AM
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) জানিয়েছে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহে ভাটা পড়েনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে; বরং আগ্রহ আরও বেড়েছে।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান জেট্রোর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা। 
 
সাক্ষাৎকারে কাজুইকি কাতাওকা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় আছেন, এই ধারণা সঠিক নয়। জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার পরিধি সক্রিয়ভাবে বাড়াচ্ছে এবং এই দেশের প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখাচ্ছে। জেট্রো জাপান সরকারের একটি বহির্বাণিজ্য সংস্থা, যা জাপান ও অন্যান্য দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা ব্যবসা প্রসঙ্গে তথ্য জানতে ঢাকার জেট্রো অফিসে জাপানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের তথ্য অনুসন্ধানে আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।”

জেট্রোর আন্তর্জাতিক অফিসগুলোর মধ্যে ঢাকার অফিস এখন অন্যতম ব্যস্ততম অফিস হিসেবে স্বীকৃত। এটি প্রমাণ করে, বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ কতটা বেশি উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় সুমিতোমো কর্পোরেশন পরিচালিত বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বিএসইজেড) জাপানের ‘এনআইসিসিএ কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড’ একটি নতুন কারখানা নির্মাণ করছে। সেখানে তারা একটি বন্ডেড গুদাম স্থাপন করবে। এটি বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর চলমান বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।” এছাড়া, লায়ন কর্পোরেশন স্থানীয় কল্লোল গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে থালা-বাসন পরিষ্কারের সাবান ও টুথপেস্ট তৈরির কারখানা স্থাপন করছে বলে জানান তিনি।
 
২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই পরিচালিত জেট্রোর এক জরিপের কথা উল্লেখ করে কাতাওকা বলেন, “জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ব্যবসা করছে এমন ৫৭ দশমিক ৭ শতাংশ জাপানি কোম্পানি তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী। এটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর বিশ্বব্যাপী এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এই সম্প্রসারণের আগ্রহ মানেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার প্রতিফলন।”

তিনি বলেন, “রপ্তানিমুখী উৎপাদন এখনো প্রধান ব্যবসা হলেও, বাংলাদেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহের একটি বড় কারণ হলো এই দেশের আকর্ষণীয় অভ্যন্তরীণ বাজার। অনেক জাপানি কোম্পানি এখন এদেশের ভোক্তা বাজারে নজর দিচ্ছে। উচ্চ আমদানি শুল্ক এড়াতে স্থানীয়ভাবে কারখানা স্থাপনের চিন্তাও করছে তারা।”

ব্যবসা বাড়াতে হলে সরকারের নীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা খুবই জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তবে রাজনীতি অবশ্যই ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলে। আগামী নির্বাচনের দিকে বিনিয়োগকারীরা গভীর নজর রাখছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিনিয়োগকারীরা খুশি হবেন।”

বাংলাদেশের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রয়োজন। কারণ জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই দীর্ঘস্থায়ী হয়। নতুন সরকার অর্থনৈতিক নীতি ও প্রণোদনা ঘোষণা করলে আরো বিনিয়োগ আসবে। অনেক জাপানি কোম্পানিও ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।”

বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, “নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য যথেষ্ট আকর্ষণীয়। অভ্যন্তরীণ বাজারও দিন দিন আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এ কারণেই ঢাকার জেট্রো অফিস বিনিয়োগ অনুসন্ধানের আগ্রহী অসংখ্য জাপানি কোম্পানির সাড়া পাচ্ছে।”

বাংলাদেশের সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে কাতাওকা বলেন, “বিনিয়োগের প্রবল আগ্রহ থাকলেও ক্ষুদ্র পর্যায়ে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি খারাপও হচ্ছে। এই দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি, বিশেষ করে কাস্টমস পর্যায়ে। অন্যান্য বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে প্রশাসনিক জটিলতায় সময়ক্ষেপণ।”

ওয়ার্ক পারমিট ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেতে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই বিলম্বের কারণে আর্থিক ক্ষতির হয়। পারমিট না থাকলে বিদেশিরা এখানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে বা টাকা তুলতে পারেন না। ছাড়পত্রের বিষয়টি সমাধানের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা ছাড়পত্র ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সেখানে ২১ দিনের মধ্যে কোনো আপত্তি না উঠলে আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে।”


স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  বাংলাদেশ   বিনিয়োগ   জাপান   জেট্রো  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close