
প্রতিশ্রুতিশীল আদর্শিক ব্যক্তিত্বের দ্বারাই একটি পরিবার, সমাজ কিংবা জাতির পরিবর্তণ হয়ে থাকে। আমরা দেখেছি, সাহসী ও দেশপ্রেমিক এক মেজরের কন্ঠেই একদিন ঘোষিত হয়েছিল মুক্তিকামী জনগণের স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা। পৈশাচিক আক্রমণের সূচনালগ্নেই পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে মেজর জিয়ার কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল, উই রিভোল্ট। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিটি মুহূর্তকে মোকাবেলা করেছিলেন অসীম সাহসিকতা ও ধৈর্যের সাথে। বন্দীদশা থেকে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ভঙ্গুর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। দুর্নীতির চাদরে আচ্ছাদিত বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল একটি তলাবিহীন ঝুড়ি। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, তৈরি পোশাক ও মানবসম্পদ রপ্তানি করে দেশের অর্থনৈতিক ভিতকে সুসংহত করেছিলেন তিনি। বিশ্বের দরবারে একটি মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ।
দেশকে স্বাধীন করার ব্রত নিয়ে কন্টকাকীর্ণ পথে রনাঙ্গণের বীর মেজর জিয়া, দুই পুত্র সন্তান পিনু ও কোকোসহ স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হানাদারদের হাত থেকে রক্ষার জন্য কৌশলে ১৯৭১ সালের ১৬ মে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে ২ জুলাই ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী থেকে ছোট দুই সন্তানসহ বন্দি হন বেগম খালেদা জিয়া। তখন পিনুর বয়স মাত্র ৭ বছর। বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধার আসন অলংকৃত করেন বেগম খালেদা জিয়া এবং শিশু মুক্তিযোদ্ধা হলেন পিনু ও কোকো। সময়ের বিবর্তনে এ অবধি ৬ষ্ঠ বারের মত কারাবন্দি হয়ে অাছেন বেগম খালেদা জিয়া। মা‘য়ের পথ ধরে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে রাজনৈতিক নিপীড়নের নিয়তিকে বরণ করে নিয়েছেন শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরি দেশনায়ক তারেক রহমানও।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ম বার ১৬৭ দিন কারাবরণ করেন এবং মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিনের উদ্ভট সরকারের সময় ২য় বার ৫৪৪ দিন কারাবন্দি জীবন কাটিয়ে বিদেশে নির্বাসনে আছেন দেশনায়ক তারেক রহমান। আর ২য় বার কারাবরণ করে অকালে প্রয়াত হয়েছেন আরাফাত রহমান কোকো।
শৈশব থেকেই তারেক রহমান স্বাধীনতা যুদ্ধ, পিতার সঙ্গে গৃহবন্দী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়ার বিরুদ্ধে ১৯টি ক্যুর প্রত্যক্ষদর্শী। সর্বোপরি পিতৃবিয়োগের বেদনা, অভাব অনটনের সংসার, মায়ের রাজনৈতিক স্ট্র্যাগল, জাতীয় জীবনের সুসময় ও দুঃসময়ের মধ্যেই বেড়ে ওঠেন তারেক রহমান। তৃণমূল থেকে সাংগঠনিক রাজনীতির উত্থান পতনের ভেতরেই যাঁর বেড়ে ওঠা তিনিই যে একদিন হয়ে উঠবেন দেশের নিপীড়িত মানুষের আশা-আকাঙ্খার প্রতিক তা ছিল অনেকটা অবধারিত।
অাজ বাংলাদেশ অাবারো দ্বিতীয়বারের মত তলাবিহীন ঝুড়ি হিসাবে চিহ্নিত হতে চলেছে, গণতন্ত্রবিহীন কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার ছোবলে, বিচারহীনতা অাজ সর্বস্তরের জনগণকে নিষ্পেষিত করছে, গুম-খুন, ভূ লন্ঠিত হচ্ছে মানবাধিকার, দুর্নীতির রাহুগ্রাসে জাতি উৎকন্ঠিত, দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিতে মানুষ অাজ বেসামাল, নির্বাচন অাজ নির্বাসনে, গণতন্ত্রের লাশ দাফনের প্রহর গুনছে, ব্যাংক লুট, টাকা পাচার করে দেশ অাজ দেউলিয়ার পথে। ঠিক এমনি সময়ে সারা দেশের মানুষ অাজ দেশনায়ক তারেক রহমানের অাহ্বানে জেগে উঠেছে। পিতার পথ ধরেই তিনি যেন আজ দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসাবে জাতির মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
১/১১’র ষড়যন্ত্রকারীরা ধ্বংস করতে চেয়েছিল, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশের কাণ্ডারি তৃণমূল থেকে উঠে আসা তারুণ্যের অহঙ্কার তারেক রহমানকে। যার পিতা নিজ গুণে স্বাধীনতার ঘোষক হয়ে দেশের চরম দুর্দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক হয়ে শাহাদাতবরণ করেন, যার মা নাবালক দুটি সন্তানকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করতে করতে ভঙ্গুর জাতীয়তাবাদী দলের কাণ্ডারি হয়ে তিন তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাদেরই রক্ত ধাবমান তারেক রহমানের শিরা-উপশিরায়। আজ ২০ নভেম্বর, প্রিয় নেতার ৬০ তম জন্মবার্ষিকী। দেশকে রক্ষা করার শেষ প্রাণ কণা, বাংলাদেশের প্রাণ, তারেক রহমান।
লেখকঃ সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী; চেয়ারম্যান- ইআরআই (এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ)
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর