
# কমলা হ্যারিস-ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি
আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে ভোটযুদ্ধ। প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন মহারণ হতে যাচ্ছে। তার একদিকে ডেমোক্রেট কমলা হ্যারিস। বিপরীতে রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প। দু’জনের মধ্যে যে ভোটযুদ্ধ হচ্ছে তাতে জয়ের সুযোগ দু’জনেরই ফিফটি ফিফটি। সমানে সমান। কার গলায় উঠবে জয়ের মালা। কেউ পূর্বাভাস দিতে পারছেন না। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পদের লড়াই আজ। এ গ্রহে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যুদ্ধ এটা। এতে বিজয়ীর হাতে উঠবে হোয়াইট হাউসের চাবি। ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্টের চেয়ার আগামী চার বছর দখলে রাখার লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। এ জন্য সারাবিশ্বের কোটি কোটি চোখ তাকিয়ে আছে সেদিকে। সঙ্গে আছে অনাকাঙিক্ষত এক ভয়। কঠিন এক অনিশ্চয়তা। এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে বাকি বিশ্ব। বিশ্বের অর্থনীতি, রাজনীতি- সবই ঘুরে যেতে পারে। এ জন্যই বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে সবাই। তারা দেখতে চায়- কার হাতে ওঠে হোয়াইট হাউসের চাবি।
এবারের নির্বাচনের মতো এমন অনিশ্চিত অবস্থা, উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আর দেখা যায়নি। কমলা হ্যারিস-ডোনাল্ড ট্রাম্প দু’জনের সামনেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। কমলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের এ যাবৎকালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট, যার শুরু একজন প্রসিকিউটর থেকে। একই সঙ্গে তিনি হবেন প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হলে তিনি হবেন ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হওয়ার পর নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। নতুন এক ইতিহাস গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দুই প্রার্থীই মাঠ চষেছেন। পাল্টাপাল্টি যুক্তিতর্ক তুলে ধরেছেন। তবে এই লড়াইয়ে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য ট্রাম্পের চেয়ে অনেক কম সময় পেয়েছেন কমলা হ্যারিস। তার দল ডেমোক্রেট থেকে প্রথমে নির্বাচন করার অঙ্গীকার করেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শারীরিক অবস্থা ও বয়সের কথা মাথায় নিয়ে ডেমোক্রেট শীর্ষ নেতারা তাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। জো বাইডেন অনড় থাকেন অবস্থানে। কিন্তু প্রথম সরাসরি প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি লেজেগোবরে করে ফেলেন। ফলে তার সরে দাঁড়ানোর দাবি আরও জোরালো হয়। এক পর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। অনুমোদন দিয়ে যান কমলা হ্যারিসকে। তখন কমলার হাতে সময় মাত্র তিন মাস। এ সময়ে ট্রাম্পের মতো একজন জাঁদরেল নেতার বিরুদ্ধে নিজেকে প্রস্তুত করে নেয়া তার জন্য সত্যিই খুব সামান্য। তবু কমলা হ্যারিস নিজেকে লৌহকঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তুলেছেন। শুধু তাই নয়। তিনি সমানে সমানে টক্কর দিচ্ছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। পর্নো তারকা ডানিয়েল স্টর্মিকে অর্থের বিনিময়ে ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে মুখ বন্ধ করিয়ে রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি। ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে তার উস্কানিতে দাঙ্গার অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি। তাছাড়া তার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ আছে। পুতিনকে দেখা হয় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর কমপক্ষে সাতবার পুতিনের সঙ্গে ট্রাস্প সরাসরি ফোনে কথা বলেছেন বলে ‘ওয়ার’ বইয়ে দাবি করেছেন বিখ্যাত সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড। এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও সুইং স্টেট যেমন গুরুত্ব বহন করছে, একই ভাবে নারী ভোটাররাও গুরুত্ব বহন করছেন। আগাম ভোটে তারা সেই জানান দিয়েছেন। ট্রাম্পের দখলে থাকা মিশিগান রাজ্যে সর্বশেষ জরিপে এগিয়ে আছেন কমলা।
এ খবর কমলা শিবিরে স্বস্তির। ট্রাম্প যেভাবে বিভক্তি ঘটিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে, এমনটা খুব কমই দেখা গেছে। তিনি শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, অভিবাসীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে দিয়েছেন। তার গ্রুপ নির্বাচন নিয়ে অপপ্রচারে নেমেছে। ভুয়া পোস্ট দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে। গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের অনুভূতিকে উস্কানি দিয়ে সুবিধা নিতে চাইছেন। কারণ, বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প নির্বাচিত হলে প্রথম দিনেই এই যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যদিয়ে তিনি আসলে ভোটের কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ভোটারদের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইতিহাস কি বলে! ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিমবিদ্বেষী বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। প্রথম মেয়াদে তিনি ক্ষমতায় আসার পর পরই সাতটি মুসলিম দেশকে যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ করেন।
যে গাজাবাসীকে এবার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন যুদ্ধ বন্ধের, তাদের প্রাণের দাবি জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণার। কিন্তু তার বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে একতরফাভাবে স্বীকৃতি দেন। নির্বাচনে ভারত, চীন, রাশিয়া বড় ইস্যু। রাশিয়া যেমন তার পক্ষে রয়েছে, তেমনি ভারত কোন পক্ষে তা স্পষ্ট নয়। কারণ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেমন ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়েছেন, তেমনি জো বাইডেনের সঙ্গে। ট্রাম্প যদি হেরে যান, তাহলে তিনি ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারির মতো দাঙ্গা লাগিয়ে দিতে পারেন বলে অনুমান করছেন অনেকে। তিনি এরই মধ্যে আভাস দিয়েছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়ী হবেন। তার অর্থ তিনি পরাজিত হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না! আইনি লড়াইয়ে যেতে পারেন। এ জন্য শীর্ষ সব আইনজীবীকে আগে থেকেই ভাড়া করেছে উভয় শিবির। ট্রাম্প আইনি লড়াই শুরু করলে তা আইনসম্মত। কিন্তু যেসব আভাস মিলছে, যেসব ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট তিনি হেরে গেলে লঙ্কাকা- ঘটিয়ে দিতে পারেন তিনি বা তার সমর্থকরা। এই ভয়ই এখন মার্কিনিদের মধ্যে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গণতান্ত্রিক। এ নির্বাচনে কোনো হাঙ্গামা, দাঙ্গা স্মরণকালে হয়েছে বলে জানা যায় না। কিন্তু ট্রাম্প এই ধারা শুরু করেছেন ২০২১ সালের ৬ই জানুয়ারি। তাছাড়া তিনি নির্বাচিত হলেও আশঙ্কার ব্যাপার আছে। তার বিরুদ্ধে ডেমোক্রেট সরকার যেভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তিনিও ঠিক একই রকম ব্যবস্থা নিতে পারেন- এমন আশঙ্কা শীর্ষ ডেমোক্রেটদের। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে সহিংসতার ভয় করছেন অনেকে। প্রতিহিংসা নেয়ার আশঙ্কা করছেন। এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কড়াকড়ি করা হয়েছে। নির্বাচনে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের মতো অর্থের ছড়াছড়ি করেছে রিপাবলিকান শিবির। বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রচারণায় থাকা টেসলার মালিক ইলন মাস্ক প্রতিদিন ১০ লাখ ডলার করে অর্থ দিয়েছেন ভোটারদের। তিনি একটি গ্রুপের মাধ্যমে ভোটারদের নিবন্ধিত হওয়ার টোপ দিয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে লটারি করে প্রতিদিন একজনকে দেয়া হয়েছে ১০ লাখ ডলার করে। এই পদ্ধতি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যায়নি। ইলন মাস্কের এই চর্চার কারণে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। একে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছেন অনেক আইনজীবী। ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল ভোটের লড়াইয়ে সমান তালে লড়াই করছেন কমলা-ট্রাম্প। সেখানে মোট প্রাপ্ত ভোটের ওপর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন না।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটে। একজন প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পেতে হয়। যদি দু’জনের কেউই এই সংখ্যা স্পর্শ করতে না পারেন তাহলে হিসাব অন্যদিকে ঘুরে যাবে। যদি দু’জনেই সমান সংখ্যক ২৬৯-২৬৯টি করে ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট পান তাহলে সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। প্রথমে ৫০টি রাজ্যের প্রতিটি থেকে একজন করে প্রতিনিধি ভোট দেবেন দুই প্রার্থীর ওপরে। তাতে যদি কোনো প্রার্থী কমপক্ষে ২৬ ভোট পান তাকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। তারপর ভাইস প্রেসিডেন্ট বাছাই করবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এতে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন তিনি হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
মার্কিন নির্বাচনী প্রচারে উল্লেখযোগ্য কিছু মুহূর্ত: সমাবেশে ট্রাম্পের ওপর গুলি ,১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগানের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী যাকে লক্ষ্য করে গত ১৩ জুলাই গুলি চালানো হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পেনসিলভানিয়ার বাটলারে যখন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিটি তার কান ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়ায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন ট্রাম্প। সিক্রেট সার্ভিস কাউন্টার স্নাইপারের হাতে নিহত হওয়ার আগে ২০ বছর বয়সী থমাস ক্রুকস কাছাকাছি একটি ভবনের ছাদ থেকে আটটি গুলি ছুড়েছিলেন। সাবেক স্বেচ্ছাসেবক ফায়ার চিফ কোরি কমপেরেটোর ভিড়ের মধ্যে গুলিবদ্ধ হন। তিনি সেইসময়ে তার পরিবারকে গুলি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। ট্রাম্পকে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরা যখন উদ্ধার করে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন সমর্থকদের কাছে ‘লড়াই’ করার জন্য কিছুটা সময় চেয়ে নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে এক সমাবেশে বলেছিলেন ‘আমি গণতন্ত্রের জন্য বুলেট হজম করেছি।’
মাস্কের সমর্থন ট্রাম্পকে: ট্রাম্পকে শুটিংয়ের রাতে টেসলার প্রধান বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক এক্স-এ পোস্ট করেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পুরোপুরি সমর্থন করি এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি’। বিষয়টি ট্রাম্পের জন্য বেশ লাভজনক। এক্স মালিকের বিপুল সামাজিক মিডিয়া উপস্থিতি তার ওয়ালেটের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাস্ক একটি প্রচারাভিযান গোষ্ঠীকে ৭৫ মিলিয়ন ডলার এবং অক্টোবরের প্রথমার্ধে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট বিডকে সমর্থন করার জন্য। তিনি ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি সমাবেশে বক্তৃতাও করেছেন।
দৌড় থেকে বাদ বাইডেন: জো বাইডেন জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট পদের দৌড় থেকে নাম প্রত্যাহার করার আগে তার ওপর বেশ চাপ ছিল। ২৭ জুন প্রথম টিভি বিতর্কে অংশ নেন দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেন। কিন্তু সেখানে একেবারেই খেই হারিয়ে ফেলেন ৮১ বছর বয়সী বাইডেন। তোতলামি, অস্পষ্ট কথাবার্তা, কথার মাঝখানে কী বলছেন তা ভুলে যাওয়া—কার্যত এই বিতর্ক ‘সার্কাসেই’ ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে বাইডেনের নামটি চলে যায় বাতিলের খাতায়। এরপরেই বাইডেনের জায়গাটি নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। হ্যারিসকে সমর্থন দেওয়ার এবং ডেমোক্র্যাটদের তার প্রচারে অনুদান দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান বাইডেন।
হ্যারিসের দৌড়: প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সমর্থন পেলেও কমলা হ্যারিসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেমোক্র্যাটদের নতুন প্রেসিডেন্ট মনোনীত প্রার্থী হিসাবে বেছে নেওয়া দরকার ছিল। বাইডেন বাদ পড়ার পরেই ৬০ বছর বয়সী হ্যারিসের কয়েকজন সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে সমর্থন করার পরে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আর কেউ সন্দেহ প্রকাশ করেনি। শেষ পর্যন্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আনুষ্ঠানিকভাবে সময়সীমার আগে নিজেদের উপস্থাপন করেনি যার জেরে হ্যারিসকে আগস্টের শুরুতে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। মনোনয়ন গ্রহণের পর তার প্রথম বক্তৃতায় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে হ্যারিস বলেছিলেন, তার একটি নতুন পথ তৈরি করার সুযোগ উপস্থিত।
কমলা আইএস ব্র্যাটঃ হ্যারিসের মনোনীত প্রার্থী হওয়ার জন্য তার দলের সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তবে তার পক্ষে সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাটিক ভোটারদের সমর্থন জোগাড়ও ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। একটি ব্রান্ডিংয়ের দরকার ছিল। যে কাজটি সহজ করে দেন বৃটিশ পপ তারকা চার্লি। এক্সসিএক্স তাকে সমর্থন করে এক্স-এর একটি পোস্টে চার্লি লেখেন,'কমলা আইএস ব্র্যাট'। নামটা উদ্ভট শোনালেও এক্সসিএক্স ছিল গ্রীষ্মে প্রকাশিত চার্লির একটি হিট অ্যালবাম। তাই চার্লির সমর্থন কমলাকে বিশেষ সুবিধা এনে দেয়।
সন্তানহীন বিড়াল: ২০২১ সালে ট্রাম্পের রানিং মেট জেডি ভ্যান্সের করা মন্তব্যগুলিও শিরোনামে এসেছে। সেই সময়ে ফক্স নিউজের সাথে কথা বলার সময় ভ্যান্স বলেছিলেন,' মিসেস হ্যারিস এবং অন্যান্য ডেমোক্র্যাটরা অনেকটা সেইসমস্ত বিড়ালদের মতো যারা নিঃসন্তান। তারা নিজেরাই নিজেদের জীবনকে দুঃখী করে তুলেছেন। ‘ডেমোক্র্যাটদের পুরো ভবিষ্যত সন্তানহীন লোকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলেও উল্লেখ করেন ভ্যান্স। ফ্রেন্ড স্টার জেনিফার অ্যানিস্টন ভ্যান্সের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ’আমি সত্যিই বিশ্বাস করতে পারছি না যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন সম্ভাব্য ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এরকম মন্তব্য আসছে। হ্যারিস তার প্রচারাভিযানে ভ্যান্সের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েব বলেছিলেন, প্রতিটি আমেরিকানই এই দেশের ভবিষ্যতের অংশীদার।
হ্যারিসের জাতিগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প: শিকাগোতে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্ল্যাক জার্নালিস্ট দ্বারা আয়োজিত একটি কনভেনশনে শ্রোতাদের সামনে ট্রাম্প হ্যারিসের জাতিগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, ‘তিনি কি ভারতীয় নাকি তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ?’ ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমি তাকে দীর্ঘদিন ধরে চিনি, পরোক্ষভাবে প্রত্যক্ষভাবে নয়... এবং তিনি সর্বদা ভারতীয় ঐতিহ্যের প্রচার করে এসেছেন। আমি জানতাম না কয়েক বছর আগে তিনি কিভাবে কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে গেলেন এবং এখন তিনি কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে পরিচিত হতে চান। তাই আমি জানি না, তিনি কি ভারতীয় নাকি কৃষ্ণাঙ্গ ? কমলা হ্যারিসের বাবা একজন জ্যামাইকান এবং মা একজন ভারতীয়। উভয়ই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী। জবাবে, হ্যারিস বলেছিলেন এই মন্তব্যগুলি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে।
ইনি আমার বাবা! মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ তুলনামূলকভাবে অপরিচিত ছিলেন যতক্ষণ না হ্যারিস তাকে তার ভাইস প্রেসিডেন্টের রানিং মেট হিসাবে আগস্টের শুরুতে বেছে নিয়েছিলেন।কিন্তু তিনি সত্যিই কয়েক সপ্তাহ পরে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশনে একটি যুগান্তকারী বক্তৃতা দিয়ে বিশেষ ছাপ ফেলতে সক্ষম হন। তিনি তার দলের বিশ্বস্তদের বলেছিলেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধ্যায় শেষ। পাতা উল্টানোর সময় উপস্থিত। আপাতদৃষ্টিতে ওয়ালজ তার ছেলে গাসের কাছ থেকে সবথেকে বেশি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন , যখন বক্তৃতার মাঝপথে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল হয়ে গর্বিতভাবে গাস বলেছিলেন, ‘ইনি আমার বাবা!’
টেলর সুইফটের হ্যারিসকে সমর্থন: পপ সুপারস্টার টেলর সুইফট তার ২৮৩ মিলিয়নেরও বেশি অনুগামীদের ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে বলেন - আমি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিস এবং ওয়ালজকে আমার ভোট দেব।
গলফ মাঠে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা
এবার আততায়ী গুলি ছোঁড়ার আগেই সিক্রেট সার্ভিসের নজরে পড়েন। ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডায় গলফ খেলার সময় ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেন রায়ান রুথ নামের এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, গাছের আড়াল থেকে ট্রাম্পের দিকে বন্দুক তাক করার সময়ই তাকে দেখে ফেলে সিক্রেট সার্ভিস এবং তাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এই আততায়ীকেও ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়। এই হত্যাচেষ্টার জন্য বাইডেন ও হ্যারিসের ‘উস্কানিমূলক কথাবার্তাকে’ দায়ী করেন ট্রাম্প।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর